প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা প্রশাসনের চাকা ঘুরছে ধীরগতিতে, বকশীগঞ্জে নেই পূর্ণকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
আবু তাহের , উপজেলা প্রতিনিধি বকশিগঞ্জ ||
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। বর্তমানে মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূঁইয়া অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বকশীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নিজ উপজেলার দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় তিনি নিয়মিত বকশীগঞ্জে সময় দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাধারণত সপ্তাহে একদিন বকশীগঞ্জে অফিস করেন। সরকারি ব্যস্ততা ও নিজ কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের কারণে অনেক সময় টানা দুই সপ্তাহেও তাকে অফিসে পাওয়া যায় না। ফলে জরুরি দাপ্তরিক কাজ, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক কার্যক্রম, নথিপত্রে স্বাক্ষর, অনুমোদন, প্রত্যয়নপত্র প্রদান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও তদারকিসহ বিভিন্ন কাজে বিলম্ব হচ্ছে।উপজেলার একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, প্রয়োজনীয় কাজে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও অনেক সময় কর্মকর্তাকে না পেয়ে একাধিকবার যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি আর্থিক ব্যয়ও বাড়ছে। নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও বিলম্ব হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বকশীগঞ্জ উপজেলার ১৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাড়াও কলেজ ও মাদ্রাসার বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম একজন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তা একসঙ্গে দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় কোনো উপজেলাতেই পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রমে ধীরগতি সৃষ্টি হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত বকশীগঞ্জে একজন পূর্ণকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানান।এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, “উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদে নিয়মিত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এখনো কোনো কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই একজন পূর্ণকালীন কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে।”শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত একজন পূর্ণকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের এ সংকটের অবসান ঘটবে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সেবাপ্রত্যাশীরা আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত