প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
সাবেক শিবির সভাপতি জাহিদ ও মনিরা শারমিনের পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
হবিগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেললেও আলোচনা-সমালোচনা থামেনি।‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে ঘিরে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গেলে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এরপর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেটে এনসিপির নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।এসব ঘটনার জন্য এনসিপি ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে। হামলা ও পুলিশি বাধার বিষয়টি মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এ প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি লেখেন, ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে—জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন (পাবলিক সিম্প্যাথি) তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’উল্লেখ্য, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত দল এনসিপি এবং ছাত্রশিবির জামায়াতের ছাত্রসংগঠন।জাহিদুল ইসলামের ওই পোস্টের পর রাতে জামায়াত-সমর্থিত বেশ কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের বক্তব্যসম্বলিত পোস্ট দেখা যায়।এর মধ্যে হাসান মো. মেহেদী নামের একটি অ্যাকাউন্টে লেখা হয়, ‘পাতানো খেলায় নিরীহ আলিফের চোখ বলি হলো!’ওই পোস্টে মঙ্গলবারের হামলায় আহত এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক আলিফ চৌধুরীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।অন্যদিকে, শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যের সমর্থনে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে এর সমালোচনাও শুরু হয়।এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের ফেসবুক পোস্ট। তিনি সেখানে সম্প্রতি জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।মনিরা শারমিন তার পোস্টে লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সি সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে ডিপ প্ল্যানের (গভীর পরিকল্পনা) গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক। নিজেদের ব্যর্থতা অস্বীকার করে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখা এক রকম অসুখ। আরোগ্য কামনা করি। আমীন।’শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনিরা শারমিনের ওই পোস্টে প্রায় সাড়ে নয় হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন এক হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ।মনিরা শারমিন ছাড়াও এনসিপির আরও কয়েকজন নেতাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিবিরের সাবেক সভাপতির পোস্টের কঠোর সমালোচনা করতে দেখা গেছে।সমালোচনার মুখে রাতেই নিজের পোস্ট মুছে ফেলেন জাহিদুল ইসলাম। এরপর বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে এনসিপি-সমর্থকদের অনেককে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করতে দেখা যায়।
সূত্র: যুগান্তর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত