প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
পাটওয়ারীর গাড়িবহরকে নিরাপত্তায় সীমান্ত পার করা হয়েছে’— হামলার অভিযোগ অস্বীকার ওসির
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
সিলেটের জৈন্তাপুরে গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে ফেরার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বহরের একটি চলন্ত গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুজন আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন বলে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে।এনসিপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম।সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আজ আমার গায়ের রক্ত ঝরেছে। এই অন্যায়ের কাফফারা তারেক রহমানকে দিতেই হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এর কঠোর জবাব দেব।’ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, জৈন্তাপুরের কর্মসূচি শেষ করে তাদের গাড়িবহর রওনা হওয়ার কয়েক মিনিট পর বিকট শব্দে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় আকারের একটি ইট গাড়িতে আঘাত করলে কাচের টুকরো ও ইটের আঘাতে তার হাতে কেটে যায় এবং পাশে থাকা সফরসঙ্গী গুরুতর আহত হন। তিনি আরও বলেন, ইটটি মাথায় লাগলে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, উসকানির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থির করে তোলা হচ্ছে। তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান। একই সঙ্গে তারেক রহমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বড় ভুল উল্লেখ করে বলেন, এর জন্য এমন মূল্য দিতে হবে, যা কল্পনারও বাইরে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার অভিযোগ, সামনে-পেছনে পুলিশের টহল এবং এএসপির প্রটোকল থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও রক্তের চিহ্ন এখনো ঘটনার প্রমাণ বহন করছে। পাশাপাশি পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।সিলেট জেলা এনসিপির সদস্যসচিব কামরুল আরিফও জানান, চলন্ত গাড়িবহর লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে, জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা হামলার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এনসিপির গাড়িবহরকে সীমান্ত এলাকা পার করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের থানার সীমানার মধ্যে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। একইভাবে শাহপরান থানা পুলিশও তাদের আওতাধীন এলাকায় এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে।উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের গোলাপগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রার সময়ও এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। দলটির দাবি, ধারাবাহিক এসব হামলা ও বাধার পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত