প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
স্কুলছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা
মো:এমরান আলী, স্টাফ রিপোর্টার ||
গোপালগঞ্জে এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দুপুরে কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী (১৩) ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নির্যাতনের সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পর ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এ ঘটনার ৪ দিন পার হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই স্কুল চলাকালে ওই কিশোরী ও তরুণকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান কয়েকজজন। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের দুজনকে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন স্কুলে ছিলাম না। পরে ঘটনাটি শুনেছি। স্কুলের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি বাড়িতে আসছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ঘটনার সময় স্কুলে প্রধান শিক্ষকের রুটিন দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘ওইদিন ওই শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি। স্কুলের পোশাক পরে রাহুথর থেকে হাতিয়াড়া গ্রামে যায়। সেখান থেকে এক তরুণসহ তাকে ধরে আনে কয়েকজন ব্যক্তি। পরে স্কুলের গেটের পাশে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখে। তখন শিক্ষকরা ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। গেটের পাশের ওই জায়গা থেকে স্কুল অফিসের দূরত্ব অনেক। সে কারণে শিক্ষক ও কর্মচারীরা এ ঘটনা টের পাননি। পরে নয়ন গোলদার তাদের নিয়ে স্কুলের অফিসে আসেন। অভিভাবকদের কাছে তাদের দুজনকে হস্তান্তর করেন।’তিনি আরও বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধরে আনার আগে কি ঘটনা ঘটেছিল তা আমার জানা নেই। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করি আমরা। এ ঘটনায় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদারসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযুক্ত নয়ন গোলদার বলেন, ‘তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার তরুণরা আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের দুইজনকে স্কুলে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম এ ব্যাপারে বলেন, ‘নয়ন গোলদার আমাকে বলেছে, সে ওই ছেলে ও মেয়েকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমি আজ ওড়াকান্দি যাচ্ছি। পরে হাতিয়াড়া ইউনিয়নে যাব। যেহেতু নয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আমি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখব। তারপরে আপনাদের (সাংবাদিক) বিষয়টি সম্পর্কে জানাতে পারবো।’কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত