প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
ইসরাইলকে রক্ষায় পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন জেনারেল
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
ইহুদিবাদী ইসরাইলকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। তার ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে একই সময়ে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।তার এ মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরাইলকে সুরক্ষা দেওয়া এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা—এই দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের মতো পর্যাপ্ত নৌ-সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেনারেল গ্রিনকেভিচ।তিনি ব্যক্তিগতভাবে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। তার মতে, এ অঞ্চলে অতিরিক্ত একটি ডেস্ট্রয়ার না পাঠানো হলে একপর্যায়ে মার্কিন কমান্ডারদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে—তারা নিজেদের বাহিনীকে সুরক্ষা দেবেন, নাকি ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সতর্কবার্তা শুধু সামরিক সরঞ্জামের সম্ভাব্য ঘাটতির কারণে নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একজনের কাছ থেকে আসায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।গ্রিনকেভিচ কোনো বাইরের বিশ্লেষক নন; তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব তদারকির দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন। তার বক্তব্যে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে যে, বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো বর্তমানে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব যুদ্ধজাহাজ দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সেগুলো ভূপাতিত করতে পারে।একই সঙ্গে এসব ডেস্ট্রয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদের অন্যতম। চীনকে মোকাবিলায় প্রশান্ত মহাসাগর, ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এগুলোর প্রয়োজন হয়।এ কারণে গ্রিনকেভিচের সতর্কবার্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত প্রতিটি যুদ্ধজাহাজের অর্থ হলো, অন্য কোনো সম্ভাব্য সংকটে সেই জাহাজ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত পেন্টাগনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।ইসরাইলও তাদের নিজস্ব অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে সবচেয়ে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় দেশটি ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি শুধু ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সেগুলোর উৎপাদন ও মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগে।সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত