প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে অবস্থান ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
ভারতে অবস্থানরত পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে দেশে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারত সরকারকেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিতে চায় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেটিই প্রত্যাশা।সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আয়োজক ক্লাবের সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এতে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনা একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং কার্যক্রম-নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের প্রধান। তিনি কোথায় কী বলছেন, তার জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নয়।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আশা করে না যে ভারতে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তারা সমর্থনও করে না। এখন আলোচিত অনলাইন অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, সেটি তাদেরই স্পষ্ট করা উচিত।তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিরা যদি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্রে জড়ান, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।শামা ওবায়েদ জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে এবং দুই দেশ ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, এ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক, বাংলাদেশ তা চায় না এবং তার বিশ্বাস, ভারতও তা চায় না।ভারত সরকারের কাছে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলোচিত অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন করছে না। তবে প্রয়োজন হলে সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।তিনি আরও বলেন, অতীতেও বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও যোগাযোগে বাংলাদেশ লিখিত এবং মৌখিকভাবে এ বিষয়টি ভারতের কাছে একাধিকবার তুলে ধরেছে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও মতবিনিময়ের সময়ও বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে অবস্থান করছেন, তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষ কেউই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না। বরং সম্পর্ক আরও উন্নত হোক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতও বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে ঢাকার অবস্থানভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে।তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ভারত, চীনসহ সব দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতি অব্যাহত রাখবে।ব্রিকস সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরেব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পরে ব্রিকস সম্মেলনেও অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কখন এবং কোথায় সফর করবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি যথাসময়ে নেবেন।ব্রিকসের আমন্ত্রণটি নরেন্দ্র মোদি চেয়ারম্যান হিসেবে দিয়েছেন কি না, অথবা ভারত সফরের আমন্ত্রণও ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি এখন আলোচনার বিষয় নয়।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদএ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেকোনো দেশের প্রতিনিধিদল এলে সরকার তা স্বাগত জানায়। দেশের মানুষের স্বার্থে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার কাজ করবে।ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংলাপের অংশ। অতীতেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।সিভিল এভিয়েশন সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সরকার যেকোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এগিয়ে নেবে, অন্যথায় তা পুনর্বিবেচনা করবে।মুসলিম দেশগুলোর জোটে নীতিগত সমর্থনসৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ ওআইসি এবং বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে।তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সরকার নীতিগতভাবে এ জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে কী মাত্রায় সম্পৃক্ততা থাকবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ।
সূত্র: এনটিভি
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত