প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাকার তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত একাধিক
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
রাজধানীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া মাদ্রাসা ও ঢাকা কলেজ এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ৫ আগস্ট উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরে হামলার ঘটনা ঘটে। প্ল্যাকার্ডে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। এসব দাবির কারণে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা।এ ঘটনায় জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক এবং সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক আহত হয়েছেন। এছাড়া জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসে শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসিভ, কয়েকজন শিক্ষকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সংঘর্ষের একপর্যায়ে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে মারধর করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় হেঁটে যেতে দেখা যায়।এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা ও ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি হন। দুপুর আড়াইটার দিকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং শহীদ সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।পরে বিকেল ৪টার পর আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায়ও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আহতদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে আহতরা অবস্থান করলেও বাইরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন।অন্যদিকে, ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল করেন ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২-এ শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ৫ ও ৬ নম্বর গ্যালারির সাজসজ্জার কাজ চলাকালে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রদলের নেতা-কর্মী এসে আব্দুল মালেকসহ অন্যদের মারধর করেন।সূত্র: মানবজমিন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত