প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ১০ দপ্তরে আইনি নোটিশ
সুজন সাহ , উপজেলা প্রতিনিধি চরফ্যাশন ||
ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অবৈধ ড্রেজার ও বালুবাহী নৌযান জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট ১০টি সরকারি দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহিবুল্লাহ খোকন নোটিশটি পাঠান। নোটিশে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর চেয়ারম্যান, ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিআইডব্লিউটিএ ভোলা কার্যালয়কে নোটিশ প্রাপক করা হয়েছে।আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর বিধান লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে ড্রেজার ও বালুবাহী নৌযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ নদীভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে।নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১ আগস্ট দৈনিক আমাদের সময়-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণের বিষয়টি উঠে এসেছে। এর ফলে জেলার বিস্তীর্ণ ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং হাজার হাজার বসতবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কবরস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।নোটিশে আরও বলা হয়, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া সরকারি বা খাস জমি, নদীর তলদেশ কিংবা চরভূমি থেকে বালু, পাথর বা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এরপরও সংশ্লিষ্টদের নীরবতার সুযোগে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।নোটিশে অবিলম্বে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ব্যবহৃত ড্রেজার, বালুবাহী নৌযান ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ, জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীতীর রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে।এতে নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনগণের মৌলিক অধিকার এবং পরিবেশ রক্ষায় উচ্চ আদালতে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করেছেন নোটিশ প্রেরক।নোটিশ প্রেরক অ্যাডভোকেট মোহিবুল্লাহ খোকন বলেন, "ভোলার মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ ও জনস্বার্থে আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হব।"
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত