প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
দেশের বারোটা বাজবে আর আমরা আঙুল চুষব, এটা হবে না: জামায়াত আমির
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে তিনি বলেন, "দেশের বারোটা বাজবে আর আমরা আঙুল চুষব, এটা হবে না।"ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তার কাছে মনে হচ্ছে, দেশে আরেকটি বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ জন্য তিনি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, পাপের ফল ভোগ করতে কিছুটা সময় লাগলেও একসময় সেই পাপই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার ভাষায়, এখন সেই পাপে পচন ধরেছে। সরকার যদি বিষয়টি উপলব্ধি করে, তবে তা তাদের জন্য ভালো হবে। অন্যথায় তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু যেসব অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছে, এখন সেসব কর্মকাণ্ডেরই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কেউ ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ তাকে ফ্যাসিবাদী বলবেই। তাই এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সম্মান করলে জনগণও তাদের সম্মান জানাবে। তিনি আরও বলেন, সবাই দেশকে ভালোবাসে এবং বাংলার মাটিতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায়কে সম্মান জানাতে হবে। তার দাবি, ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের রায় অস্বীকার করে কেউ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি; শেষ পর্যন্ত তাদের অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আপস করার জন্য তাদের ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে। তবে দেশবাসীকে সাক্ষী রেখে তিনি জানান, জনগণের গণরায় রক্ষায় তারা অটল থাকবেন। মহান আল্লাহর সাহায্যে এই দাবি আদায়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোনো কিছুর বিনিময়ে, এমনকি জীবনের বিনিময়েও তারা এ অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। তার প্রত্যাশা, দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত