প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
জেন-জি ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
সম্প্রতি ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’ বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। আন্দোলনের সময় দেশটির জি-প্রজন্ম বা জেন-জি বিক্ষোভকারীরা নয়াদিল্লির রাজপথে নেমে আসে। তারা শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধেই নয়, ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করে।দিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সরকারপন্থী হিসেবে পরিচিত ‘গোদি মিডিয়া’ বা মূলধারার গণমাধ্যমেরও সমালোচনা করেন আন্দোলনকারীরা।আন্দোলনের সময় ভারতের মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা বিক্ষোভকারীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। অনেককে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং কেউ কেউ জনরোষের শিকার হন। এতে আন্দোলনকারীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার সঙ্গে টেলিভিশনে প্রচারিত তথ্যচিত্রের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা মানুষের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে ওঠে তথ্য পাওয়ার প্রধান উৎস, যা জর্জ অরওয়েলের নাইনটিন এইটি-ফোর–এর সঙ্গে তুলনার জন্ম দেয়।গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। ওইদিন হাজারো মানুষ দিল্লিতে জড়ো হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, পেলেট গান ও লাঠিচার্জ চালায়। ১৭ বছর বয়সী দীক্ষা মিশ্রা দ্য গার্ডিয়ান–কে বলেন, “পুলিশ আমাদের ভীষণভাবে মারধর করেছে। অনেকের মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল, কারও কারও নাক ভেঙে গেছে।” আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ১৫০ জন আহত হয়েছেন।তবে ভারতের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ঘটনাটিকে সংঘর্ষ হিসেবে উপস্থাপন করে। এনডিটিভি বিক্ষোভকারীদের উসকানিদাতা হিসেবে উল্লেখ করে এবং তারা সংগঠিত জনতা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। টাইমস নাও তাদের নৈরাজ্যবাদী হিসেবে তুলে ধরে এবং পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। রিপাবলিক টিভি দাবি করে, মিছিলের আগে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা সতর্কতা বিদেশি সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। অন্যদিকে, তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ‘অল্ট নিউজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই এএনআই পুলিশের পদক্ষেপ বা বিক্ষোভকারীদের আহত হওয়ার বিষয়ে এক্সে কোনো পোস্ট দেয়নি।সমালোচকদের মতে, নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম ধীরে ধীরে সরকারপন্থী অবস্থান নিয়েছে এবং বিরোধী নেতা, অধিকারকর্মী, সংখ্যালঘু ও সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক রভিশ কুমারের ব্যবহৃত ‘গোদি মিডিয়া’ শব্দটি নতুন করে আলোচনায় আসে, যখন জেন-জি প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমের বয়ানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আটক এক বিক্ষোভকারী একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভিডিও ধারণ করছেন, যেখানে ওই কর্মকর্তা আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক রাখার হুমকি দিচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি পুলিশ ভ্যানের দরজা খুলে কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে পালাতে সহায়তা করছেন।জনচাপের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী এক্সে লেখেন, টেলিভিশন জনগণের আস্থা হারিয়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা যাই করুন না কেন, কৃত্রিমভাবে সত্যিকারের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পারবেন না।”‘নেভার লগড আউট: হাউ দ্য ইন্টারনেট ক্রিয়েটেড ইন্ডিয়াস জেন জি’ বইয়ের লেখিকা ২৭ বছর বয়সী রিয়া চোপড়া বলেন, ক্রমেই বেশি মানুষ অনলাইন ভিডিওর ওপর নির্ভর করছেন, কারণ তারা এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের চেনেন অথবা প্রতিবাদগুলো তাদের আশপাশেই ঘটছে।তিনি আরও বলেন, “এর একটি কারণ হলো, তারা এমন বাচ্চাদের চেনেন, যারা এই প্রতিবাদগুলোতে যাচ্ছে, অথবা এটি একেবারে তাদের দোরগোড়াতেই ঘটছে। তাই তারা কী ঘটছে তা জানতে চাইবেই। এটি এমন একটি বিষয়, যা সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।”
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত