প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
মারো না কেন, বাড়তে দাও কেন?’— ট্রাইব্যুনালে দাখিল কল রেকর্ডে ওবায়দুল কাদের–সাদ্দামের কথোপকথন
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে একটি কল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দেন। এ দাবির সমর্থনে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়।উপস্থাপিত অডিওতে সাদ্দাম হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের সমাবেশ মাত্র শেষ করলাম। আর ওদের প্রোগ্রাম চলতেছে। ওখানে তিন হাজারের মতো স্টুডেন্টস আছে। সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পিটাও না কেন ওদের? তোমরা ওদের মারো না কেন? জড়ো হতে দাও কেন ওদের? তুমি না বলেছিলে আজকে থেকে হালকা হয়ে যাবে, তাহলে কই?’জবাবে সাদ্দাম বলেন, ‘স্যার, জমায়েত আজকে বেশি ছিল।’পরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন তো জামায়াত আর বিএনপিও যোগ হয়েছে। কিন্তু এটার কি কিছু করার নেই?’এর উত্তরে সাদ্দাম বলেন, ‘স্যার, আমরা যদি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই তাহলে তা করতে পারব। আজকেও তো আমাদের শাহবাগ যেতে, ওদের সামনে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।’এরপর ওবায়দুল কাদের জানতে চান, ‘কে বলেছিল?’জবাবে সাদ্দাম বলেন, ‘ফোন দিয়েছিল স্যার। পুলিশ আর বিপ্লব দা যোগাযোগ করেছিল।’
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে ওবায়দুল কাদের সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো এবং একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও প্রসিকিউশন তুলে ধরেছে।সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত