প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
আড়াইহাজারে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য আটক
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
নারীকে ব্যবহার করে অপহরণ, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; বিকাশ-নগদে আদায় করা হতো মুক্তিপণনারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নারীকে ব্যবহার করে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শীলমান্দি গ্রামের মো. শ্যামল ভূঁইয়া, সুমন ও ইউসুফ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে জেলহাজতে রাখার আবেদন করেছেন। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের শীলমান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।মামলার এজাহার ও আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। পরে তিনি নিজেকে আড়াইহাজারের শীলমান্দি গ্রামের একটি প্রাচীরঘেরা টিনশেড ঘরে আটক অবস্থায় দেখতে পান।অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে মারধরের পাশাপাশি শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে দিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এরপর বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।এ ছাড়া ভুক্তভোগীর কাছে থাকা নগদ ২৭ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, ব্যাংকের ডেবিট কার্ড, এক লাখ টাকার স্বাক্ষর করা চেক, একটি স্বর্ণের আংটি এবং একটি হাতঘড়ি নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারীকে ব্যবহার করে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে লোকজনকে নির্জন স্থানে নিয়ে অপহরণ করত। এরপর মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করা হতো।তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, জামিনে মুক্তি পেলে তারা পালিয়ে যেতে পারে এবং তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার বলেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা নারীকে ব্যবহার করে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করত এবং পরে মুক্তিপণ আদায় করত।তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় দণ্ডবিধির অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, আঘাত ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত