প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
কনস্টেবলের মতোও মনে হয় না, সেই থানার ওসি’: টেকনাফে যুবদল নেতার মন্তব্য
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম। একই সঙ্গে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা ও পৌর বিএনপি কার্যালয়ের পাশের মাঠে পৌর বিএনপির অধীন ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম এসব কথা বলেন।ওসি সাইফুল ইসলামকে নিয়ে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘একটা কনস্টেবলের মতোও মনে হয় না, সে-ই থানার ওসি!’আব্দুল কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর একান্ত সহকারী (পিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বর্তমান প্রশাসনের মাধ্যমে টেকনাফে অপহরণ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে সৎ, সাহসী ও কার্যকর কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার দাবি জানান তিনি।তিনি বলেন, টেকনাফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা প্রয়োজন। বর্তমান ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এলাকায় পুরোপুরি শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরবে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।যুবদলের এই নেতা আরও বলেন, সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক কারবারি ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। টেকনাফকে মাদক ও অপহরণমুক্ত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা দরকার।অপহরণের ঘটনা ঘটার পর অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জাতীয় নির্বাচনের আগে টেকনাফে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, তা না হলে অপহরণ বন্ধ করা কঠিন হবে।সম্মেলন ও কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন টেকনাফ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান বক্তা ছিলেন পৌর বিএনপির সদস্যসচিব হাফেজ এনামুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।ওসির বক্তব্যযুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুমের বক্তব্যের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এ বিষয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়াও নেই। তিনি কেন এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন।’তিনি আরও বলেন, টেকনাফে যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করে যাবেন। সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে তারা দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কোনো ধরনের কথোপকথন হয়নি বলেও দাবি করেন ওসি সাইফুল ইসলাম।বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়াযুবদল নেতার বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন, টেকনাফ-উখিয়ার প্রতিনিধি রুবাইয়াত হোসেন। তার মতে, থানা পুলিশকে নিরুৎসাহিত করা হলে টেকনাফের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে থানা পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পুলিশের জনবল বাড়ানো, নতুন পুলিশ চৌকি স্থাপন এবং সামগ্রিক পুলিশিং ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানান তিনি। এসব দাবির পক্ষে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান রুবাইয়াত হোসেন।এদিকে টেকনাফ পৌর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম ফেসবুকের এক মন্তব্যে লেখেন, ‘অবৈধ তদবির, মামলা বাণিজ্য ও অবৈধ আবদারে যখন কাজ হয় না তখন ওসি খারাপ হয়ে যায়!’অন্যদিকে ‘নিউজ অব টেকনাফ’ নামের একটি ফেসবুক আইডির মন্তব্যে দাবি করা হয়েছে, টেকনাফে যারা বিএনপি নেতা হিসেবে ইয়াবার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদেরই কেউ কেউ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আশ্রয়দাতা এবং অর্থের বিনিময়ে তাদের নিরাপদে রাখার সঙ্গে জড়িত।তবে ফেসবুকে করা এসব মন্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।বক্তব্যের শেষ দিকে আব্দুল কাইয়ুম আশা প্রকাশ করেন, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত