প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
ভোলায় দুই মাসেও শুরু হয়নি সেতু নির্মাণ, দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ
সুজন সাহ , উপজেলা প্রতিনিধি চরফ্যাশন ||
ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের বেতুয়া খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ লোহার সেতু ভেঙে পড়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। একই সঙ্গে সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় স্থানীয়দের জন্য কার্যকর কোনো বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থাও করা হয়নি। ফলে রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।গত ২৩ জুন বালুবাহী একটি ট্রাক জরাজীর্ণ সেতুটির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় সেটি হঠাৎ ভেঙে খালে পড়ে যায়। এতে ট্রাকচালক মো. নাইম (২৫) নিহত এবং তাঁর সহকারী মো. আল আমিন (১২) গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর থেকে সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।সেতু ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। বর্তমানে সেটিই দুই ইউনিয়নের মানুষের পারাপারের প্রধান ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি পার হতে হচ্ছে। বর্ষায় সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের প্রায় এক যুগ পর থেকেই সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বালুবাহী ট্রাক পারাপারের সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে।সেতুটি স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এটি ভেঙে পড়ার প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া এবং দৈনন্দিন চলাচলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না হলে বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মো. ইয়াছিন, মো. ফয়েজ উল্যাহ, মো. লোকমান, আবু মিয়া, মো. বাবুল, মো. শামীম মাস্টার, মো. জাবের, মো. জসীম ও মো. মোসলেহ উদ্দিনসহ অনেকে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়রা জানান, বেতুয়া খালের ওপর সেতুটি ২০০৩ সালে নির্মাণ করা হয়। সেতুটি সাবেক মন্ত্রী, সাবেক স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের গ্রামের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. তানজিলুর রহমান বলেন, সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট করতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সয়েল টেস্ট শেষ হলে নকশা তৈরি করে জমা দেওয়া হবে। এরপর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সয়েল টেস্টের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।স্থানীয়দের দাবি, সয়েল টেস্ট, নকশা ও ব্যয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে নিরাপদ ও টেকসই বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থাও চান তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত