প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
কেশবপুরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, অর্থ ভাগবাটোয়ারার দাবি
ডেক্সট রিপোর্ট। ||
যশোরের কেশবপুরে বাসবাড়িয়া খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খালটি খনন করা হয়েছিল। এরপরও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই খাল পুনরায় খননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেশবপুর উপজেলার ধর্মপুর ব্রিজ থেকে ৩ দশমিক ৩৫০ মিটার বাসবাড়িয়া খাল খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৩ মে কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে খননকাজ শেষ করা হয়। প্রকল্পটির চেয়ারম্যান ছিলেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলাম।প্রকল্প চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা প্রশাসন ও পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ভেকু দিয়ে খাল খননের কাজটি সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুলের মাধ্যমে করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।অন্যদিকে, খালের পাড়ে ১১৪ জন শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্প চেয়ারম্যান জানান, তিনি শ্রমিকদের কাজ তদারক করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন একজন শ্রমিককে ৫০০ টাকা মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তবে একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মাত্র ৮ থেকে ১০ দিন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে।সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুল জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তাদের অনুরোধে তিনি ভেকু দিয়ে বাসবাড়িয়া খাল খনন করেছেন। এ কাজের বিল হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। কিন্তু তাকে দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। বাকি অর্থ উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, বাসবাড়িয়া খালটি দুই বছর আগে খনন করা হলেও চলতি বছর আবারও সেটি খননের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিজস্ব লোক হিসেবে মোকলেছুর রহমান মুকুল খাল খননের কাজ করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী পুরো খাল খননের জন্য মুকুলকে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি শুধু শ্রমিক দিয়ে মাটির কাজ করেছেন।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসতিয়াক হোসেন বলেন, প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ওই খাল খনন করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত