প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে পেন্টাগনের নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দেশটির অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগন।একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এ-সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপির বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর প্রকাশ করেছে।মার্কিন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ বুধবার সামরিক শিল্প খাতের নেতাদের এ নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা দিতে হবে।এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। ফেইনবার্গ বলেন, অস্ত্র তৈরির উন্নয়ন ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর যে সময় লাগছে, তা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। অস্ত্র নির্মাতাদের উৎপাদন ও সরবরাহের সময় ‘নাটকীয়ভাবে দ্রুত’ করার আহ্বান জানান তিনি।অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের খবরের মধ্যেই শনিবার পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ এখনো পর্যাপ্ত রয়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ইউনিটের প্রধান উপপরিচালক জ্যারেড কনলিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বর্তমান সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে। কনলি বলেন, বর্তমানে যে কার্যক্রম চলছে, তার প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও তাদের কাছে আছে বলে জানান তিনি।তবে একই সময়ে অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে পেন্টাগনের জরুরি নির্দেশের বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্রের মজুদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী গোলার মজুদ নিয়ে উদ্বেগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। গত মাসে ইরানের বিরুদ্ধে আরও উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ওয়াশিংটন পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়টি ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সামরিক কৌশলকে প্রভাবিত করছিল। বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিরোধী গোলার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।এর মধ্যে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুদ নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদের ওপর চাপ তৈরি করেছে। এ সময় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষার গোলার ঘাটতি নিয়েও আলোচনা হয়।ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন হেগসেথ। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ার দায় তিনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গের দিকে ঠেলে দেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্টের ওই প্রতিবেদনকে সরাসরি ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে হেগসেথের ওপর তার ‘পূর্ণ আস্থা’ রয়েছে।হেগসেথের কাজের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তার পারফরম্যান্সে তিনি ‘অত্যন্ত সন্তুষ্ট’। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।সংবাদমাধ্যমটির তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাদের জানানো হয়েছিল যে প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওয়াশিংটন পোস্টকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘খারাপ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটিকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প।ট্রাম্প তার বক্তব্যে হেগসেথের নেতৃত্বে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানগুলোরও প্রশংসা করেন। তিনি ভেনেজুয়েলা ও ইরানে তার প্রশাসনের নেওয়া সামরিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, দুটি অভিযানই তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছে।এ ছাড়া সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ বাড়ানো এবং বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক কর্মসূচি বাতিলের জন্যও হেগসেথকে কৃতিত্ব দেন ট্রাম্প।ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন—উভয় পক্ষই ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে এমন বিরোধের দাবি অস্বীকার করেছে।হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এমন ঘটনা ‘আক্ষরিক অর্থেই কখনো ঘটেনি’। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের ওপর ট্রাম্পের ‘পূর্ণ আস্থা’ রয়েছে।পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ নিয়ে হেগসেথ কাউকে বিভ্রান্ত করেননি। সম্ভাব্য গোলাবারুদের ঘাটতির জন্য তিনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেইনবার্গকেও দায়ী করেননি বলে জানান পারনেল।সরকারিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ এখনো পর্যাপ্ত বলে জানানো হলেও একই সময়ে অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেইনবার্গের দেওয়া ২১ দিনের সময়সীমা থেকে বোঝা যায়, পেন্টাগন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত করতে চাইছে।ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অস্ত্রের মজুদ শক্তিশালী করতে চাইছে। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্ত্র উৎপাদন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ঠিক কত পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং কোন কোন অস্ত্রের মজুদ সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত