প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাঠামোয় আইআরজিসির সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে নিয়োগ দিয়েছেন।রেজাইয়ের আগে এই দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মাদ বাকের জোলঘাদর। রোববার প্রকাশিত একটি আদেশের মাধ্যমে রেজাইকে নতুন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। মোজতবা খামেনির নামে পরিচালিত এক্স অ্যাকাউন্টেও এ নিয়োগের ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে।ওই ঘোষণায় বলা হয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেজাইকে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি করা হয়েছে। সেখানে তাকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের শুরুর সময়ের অন্যতম কমান্ডার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। ১৯৮০-এর দশকের ওই যুদ্ধকে ইরানে ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ’ নামে অভিহিত করা হয়।মোহসেন রেজাই আইআরজিসির সাবেক প্রধান। বর্তমানে তিনি ইরানের স্বার্থ নির্ধারণ পরিষদেরও সদস্য। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এই পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে তা সমাধানে স্বার্থ নির্ধারণ পরিষদ কাজ করে।গার্ডিয়ান কাউন্সিলও ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সরকারি বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি নির্বাচনী বিষয়েও এই পরিষদের উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে।১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে রেজাই সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক নীতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।এদিকে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে রেজাইকে নিজের প্রতিনিধি করার পাশাপাশি মোহাম্মাদ বাকের জোলঘাদরকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। পৃথক একটি আদেশে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।জোলঘাদরের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে মোজতবা খামেনি বলেন, তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। তার অভিজ্ঞতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়। রেজাই নিয়োগের আগে জোলঘাদরই সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে মোজতবা খামেনির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।জোলঘাদরের আগে এই পদে মোজতবা খামেনির প্রতিনিধি ছিলেন আলি লারিজানি। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি নিহত হন। এরপর ওই দায়িত্বে জোলঘাদরকে আনা হয়। এবার তার স্থলাভিষিক্ত হলেন মোহসেন রেজাই।এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক একজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারকে আরও সামনে নিয়ে আসা হলো।পেজেশকিয়ান-মোজতবা খামেনির বৈঠকরোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।ইসরায়েলের কয়েকটি গণমাধ্যমে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক’ বলে খবর প্রকাশের কয়েক দিন পর এই বৈঠকের খবর সামনে আসে।প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের বিষয়ও আলোচনায় আসে।অর্থনৈতিক আলোচনায় ইরানের মুদ্রা রিয়াল, বৈদেশিক মুদ্রা ও জ্বালানি ব্যয় ব্যবস্থাপনার বিষয় ছিল। বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন।মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মোজতবা খামেনির বৈঠকের বিষয়টি মোজতবা খামেনির নামে পরিচালিত ফারসি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টেও জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের দায়িত্বের তৃতীয় বছর শুরু হওয়ার সময় দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতা বৈঠকে বসেন।ওই পোস্টে আরও জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মানুষের প্রয়োজন মেটানো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি, সামরিক অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করা এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো আলোচনায় ছিল।এ ছাড়া রিয়াল, বৈদেশিক মুদ্রা, জ্বালানি ব্যয় এবং বিদেশি পক্ষগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জল্পনা২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তাকে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তিনি লিখিত বিবৃতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন।তার অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বাবাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রথম দিকের একটি ঘটনায় মোজতবা আহত হয়েছিলেন। কিছু প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ওই হামলার পর তার চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।এরপর নিরাপত্তার কারণে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। হামলার ঝুঁকি এড়াতে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি সরাসরি যোগাযোগ না করে একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যোগাযোগ করছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যমে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আবারও খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে তাকে সংকটজনক অবস্থায় থাকার এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করা হয়।এরপর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ একটি তারিখবিহীন ভিডিও প্রকাশ করে। ওই ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। মেহর নিউজই প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ করে।মেহর নিউজ ইরান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম। এটি ইরানের ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের অধীনে পরিচালিত হয়।মোজতবার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবর ও জল্পনা খণ্ডন করতেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত