প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
মনপুরায় নদীর তীর ঘেঁষে ড্রেজিং, হুমকিতে হাজার কোটি টাকার বেড়িবাঁধ
মোঃ মামুন, উপজেলা প্রতিনিধি মনপুরা ||
ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীরের খুব কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন উপকূল রক্ষা ও বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজে। এতে নদীর তীর ও নির্মিত বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মেসার্স মারিয়া এন্টারপ্রাইজের কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, মনপুরার পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানেও তীরের কাছাকাছি এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। কোথাও নদীর তীর থেকে প্রায় ৩০০ মিটার, কোথাও ৫০০ মিটার, আবার কোথাও প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে বাল্কহেডে করে এসব বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজে।মারিয়া এন্টারপ্রাইজের এক সুকানি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিএ কোম্পানির সাইটে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার শহীদুল ইসলামের নির্দেশে তারা বালু উত্তোলন করছেন।তবে ড্রেজারের মালিক মো. আমির বলেন, নদীর তীরের কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে তারা ভুল করেছেন। এখন থেকে নদীর তীর থেকে প্রায় এক হাজার মিটার দূরে গিয়ে বালু উত্তোলন করা হবে।এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিএ-এর সাইটে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ও ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম বলেন, “ড্রেজারটিকে নদীর তীর থেকে এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে বালু তুলতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ড্রেজারের সুকানি সেই নির্দেশনা না মেনে নদীর কাছ থেকে বালু তুলেছে।মেঘনার তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, “মেঘনার তীর থেকে এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে বালু তোলার অনুমতি সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া আছে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীরের কাছ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর তীরের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন তীব্র হতে পারে। এতে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধসহ উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন,
বর্তমানে বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতা, জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতার যোগসাজশে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এদিকে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা চরফ্যাসন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমদাদুল ইসলাম বলেন, “উপকূলের কাছ থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীর থেকে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে বালু উত্তোলন নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত