প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
আ.লীগ নেতাদের নেতৃত্বে চার দিনমজুরের বাড়িতে হামলা, গরু লুটের পর ভূরিভোজ
স্টাফ রিপোর্টার। ||
রংপুরের পীরগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে দিনের বেলায় চার দিনমজুরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা ছয়টি উন্নত জাতের গাভী, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি চুরি করা গরু জবাই করে প্রকাশ্যে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয় বলেও জানা গেছে।রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে।স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, রোববার সকালে ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশুচিকিৎসক রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০-৮০ জনের একটি সশস্ত্র দল দামুরস্বর গ্রামের মৃত গফুর প্রামাণিকের ছেলে সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।হামলার সময় বাড়ির লোকজন ভয়ে সরে গেলে হামলাকারীরা ঘরের ফ্রিজ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে সেচ পাম্প (শ্যালো মেশিন), মোটর, টিভিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এরপর মাত্র ২০০ গজ দূরে থাকা সৈয়দ আলী, এরশাদ আলী ও রুবেল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে আটটি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকার এবং ছয়টি বড় গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাদের ঘরে এখন থাকার কিংবা খাওয়ার মতো কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। চাল-ডাল থেকে শুরু করে রান্না করা তরকারির পাতিলও হামলাকারীরা নিয়ে গেছে। তাদের ভাষ্য, হামলার পুরো সময় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহারা বসানো হয়েছিল, যাতে কেউ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে না পারেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এভাবে তাণ্ডব চালিয়ে দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু লুটের ঘটনায় পুরো গ্রাম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এমনকি লুট করা গরু জবাই করে এলাকাতেই ভূরিভোজের আয়োজন করা হয় বলে তারা জানান।অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী ও রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা এলাকায় ছিলেন না; বাইরে ছিলেন।তবে অপর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুকুল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: কালবেলা
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত