প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
সেতু সচিবের সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠান ও স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের প্রতিনিধিদের বৈঠক
স্টাফ রিপোর্টার। ||
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল করা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় সম্ভাবনাময় প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন জাপানের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কোম্পানি লিমিটেড ও স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রতিনিধিরা।আজ সেতু বিভাগের সচিবের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান Mr. Sayeed Ibrahim Ahmed এবং Miyagawa Kensetsu Co; Ltd-এর Director/Overseas Mr. Toji Nishida ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।বৈঠকের শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ প্রতিনিধি দলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ খাতে চলমান পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।তিনি বিশেষভাবে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সাফল্য এবং এসব প্রকল্পের আর্থ-সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন। পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর সফল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।সেতু সচিব উল্লেখ করেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রথম পিপিপি ভিত্তিক প্রকল্প। ঢাকাবাসী এরই মধ্যে প্রকল্পটির আংশিক সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। অবশিষ্ট অংশের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে।সেতু সচিব আরও বলেন, সেতু বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নিয়মিত তদারকি, দিকনির্দেশনা এবং নেতৃত্ব তাদের কাজের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। দেশের কল্যাণে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সাক্ষাৎকালে Miyagawa Kensetsu Co; Ltd-এর Director/Overseas Mr. Toji Nishida বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের উদীয়মান অর্থনীতির গতিশীলতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম টেকসই ও সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।তিনি স্ট্যালিয়ন গ্রুপের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন পিপিপি প্রকল্পে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ভোলা-বরিশাল, শরীয়তপুর-চাঁদপুর এবং ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে সরাসরি অর্থায়ন, নকশা প্রণয়ন, নির্মাণকাজ এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহের কথা জানান।প্রতিনিধি দলের এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের জন্য আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, যানজটমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাসম্পন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পিপিপি ভিত্তিক প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা এবং বিনিয়োগের পূর্ণ নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন সেতু সচিব। বিনিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে উভয় প্রতিষ্ঠানের কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।বৈঠকের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে পিপিপি মডেলের আওতায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে একমত হয়। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের কারিগরি, আইনগত ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আরও কয়েক দফা বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।বিনিয়োগ প্রস্তাব পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন সচিব। একই সঙ্গে বিনিয়োগের শর্ত ও সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে MILT জাপান এবং বাংলাদেশের পিপিপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি জানান, প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত