প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
আমতলীতে রাতের আঁধারে ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, আদালতে মামলা
উজ্জল মুন্সি , উপজেলা প্রতিনিধি আমতলী ||
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ফকিরখালী গ্রামে রেকর্ডভুক্ত জমিতে নির্মিত একটি টিনের ঘর রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার বেগম আমতলী আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফকিরখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরুন্নাহার বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া এসএ ৩১২ নম্বর খতিয়ানের জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। গত রোববার তিনি বসবাসের উদ্দেশ্যে ওই জমিতে প্রায় ১৪ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন।নুরুন্নাহার বেগমের অভিযোগ, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মো. মোতাহার সিকদার, সোলায়মান সিকদারসহ ১৫-২০ জন লোক তাঁর নির্মিত ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরে অবস্থানরত তিনজন প্রহরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তরা ঘরটি ভেঙে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ ঘটনায় ঘরে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন নুরুন্নাহার।মামলার এজাহারে মো. মোতাহার সিকদার (৬০), সোলায়মান সিকদার (২৫), মোস্তফা ঘরামী (৩০), রাবেয়া (২৮), কোহিনুর (৫৫) ও ইউসুফ সিকদার (৩০)সহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ চৌকিদার বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম। আমাদের জিম্মি করে রাখার কারণে বাধা দিতে পারিনি।”মামলার দুই সাক্ষীও দাবি করেছেন, তাঁরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে প্রাণভয়ের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে জানান তাঁরা।অভিযোগের বিষয়ে মো. মোতাহার সিকদার তা অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এ মামলা করা হয়েছে।”এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আদালত থেকে এখনো কোনো কাগজপত্র পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মামলাটি বর্তমানে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত