প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
রোগীদের ওষুধ নেই, রাতে পুড়ছে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ!
মোঃ রাশেদুল ইসলাম , উপজেলা প্রতিনিধি চর-রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) ||
চর রাজিবপুরে রাতের আঁধারে সরকারি ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগরাশেদুল ইসলাম, চর রাজিবপুর উপজেলা প্রতিনিধি (কুড়িগ্রাম)কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় রাতের আঁধারে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে হাসপাতাল চত্বরে ওষুধ পোড়ানোর সময় স্থানীয় লোকজন আপত্তি জানান। পরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে উত্তপ্ত পরিস্থির সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলে প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলে বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ার আশায় আসা রোগীদের অনেককেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। অথচ একই হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দ ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে কয়েক বস্তা নষ্ট হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে হাসপাতাল চত্বরে ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব আল আমিনসহ কয়েকজন সেখানে যান। তারা ওষুধ পোড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জানতে চান।আল আমিন বলেন, রাতের আঁধারে তিন বস্তা সরকারি ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে তিন বস্তা ওষুধ পড়ে থাকতে দেখি।এদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার অনুপস্থিতিতে লুৎফর রহমান নামে একজন হাসপাতালের তদারকি করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।স্থানীয়দের দাবি, লুৎফর রহমান একটি প্রকল্পে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে হাসপাতালে রাখেন ওই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে ডা. সারওয়ার জাহান বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখার জন্য কিছু পুরাতন কাগজ পুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় কিছু পুরাতন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ছিল সেগুলো করোনার সময়ের। ঘটনার পর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেন।তিনি বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, এভাবে ওষুধ পোড়ানোর কোনো নিয়ম নেই। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত টিম মাঠে কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত