প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
কুয়াকাটায় জেলেদের জালে বিরল ‘বক্স ক্রাব’
স্টাফ রিপোর্টার। ||
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির ‘বক্স ক্রাব’ বা লজ্জাবতী কাঁকড়া। ব্যতিক্রমী আকৃতির এই সামুদ্রিক কাঁকড়াকে ঘিরে স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মহিপুর মৎস্য বন্দরের ইলিয়াস মাঝির মাছ ধরার ট্রলারে অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি ধরা পড়ে। পরে জেলেরা সেটি অন্যান্য মাছের সঙ্গে আড়তে নিয়ে আসেন। বন্দরের আখি ফিস নামের একটি মাছের আড়তে কাঁকড়াটি নেওয়ার পর সেটি দেখতে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। তবে কাঁকড়াটি খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকায় জেলেরা এটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন।আখি ফিসের মো. আলামিন বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে উঠে আসে। এ ধরনের কাঁকড়া সাধারণত দেখা যায় না। এ কারণে জেলেদের মধ্যেও এটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়।বক্স ক্রাবের খোলস গোলাকার এবং বেশ প্রশস্ত। সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় এর দেহ অনেকটাই গোল। এর খোলস উঁচু ও শক্ত এবং ওপরের অংশটি গম্বুজের মতো দেখতে। খোলসজুড়ে রয়েছে ঘন কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ। দুই পাশে থাকা বড় ও মোটা দাঁড়া এই কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। সাধারণত বালুময় ও কাদাময় নরম সমুদ্রতলে এবং কখনো প্রবাল প্রাচীরের আশপাশে ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এদের দেখা যায়।তিনি বলেন, কুয়াকাটার কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কাঁকড়া সাধারণত দেখা যায় না। এ কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে এটি খাওয়ার প্রচলনও নেই। তবে যেসব অঞ্চলে এ কাঁকড়া বেশি পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া। এগুলো সামনে ভাঁজ করে মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমাতেও এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় এমন কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু তা আহরণ করাই নয়, প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য সম্পর্কিত তথ্য নথিবদ্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত