প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
মাদকের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে নাসিক ৩নং ওয়ার্ড।
মোঃ ওলিউল্লাহ , ব্যুরো প্রধান রাজশাহী ||
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ৩নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা ও সেবন বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সানাড়পাড় বিডিডিএল বালুর মাঠ,বাগমারা ,নিমাইক্যাশারি মামা বাগিনার গলি, রাসেলের চায়ের দোকান সংলগ্ন , রসূলবাগ সাততালা,আদর্শনগর মেলার মাঠ, বটতলা মাটির রাস্তায় এ ধরনের কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার দাবি, মাদক বিক্রির পাশাপাশি কিছু মাদকসেবী অর্থের যোগান দিতে হানিট্র্যাপ,অনলাইন জুয়া, চুরি সহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় উদ্যোগ কামনা করেছেন, যাতে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মাদক সিন্ডিকেটগুলোর এই দৌরাত্ম্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, "আমাদের চোখের সামনেই অনেক মেধাবী ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ছোটখাটো দোকান ও অলিগলিতে যেভাবে মাদকের সহজলভ্যতা বেড়েছে, তাতে সন্তানকে একা বাইরে পাঠাতেও আমরা ভয় পাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক এতই বিস্তৃত যে, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, দোকানের সামনেই মাদকসেবীদের আড্ডার কারণে ক্রেতারা আসতে অস্বস্তি বোধ করেন, যা তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও কেন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এলাকাবাসী আরো জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও কিশোরগ্যাং , যারা প্রায়ই প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে পার পেয়ে যায় এবং কেউ মাদকব্যবসায় বাধা দিলে হুমকি মারধরও বাড়িঘরে হামলা চালায়। প্রশাসন আটক করে নিয়ে গেলেও খুব সহজেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেও স্থায়ী কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এলাকাবাসী এখন কেবল আশ্বাসে বিশ্বাসী নন। তারা চায় মাদক বিক্রির স্পটগুলোতে সরাসরি অভিযান চালিয়ে মুল মাদক কারবারীকে আইনের আওতায় আনা এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা । সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা। এবং সিসিটিভি স্থাপন করে অপরাধ প্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত