প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
চীন-ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য নৌ মহড়ায় তাইওয়ানের উদ্বেগ
ডেক্স রিপোর্ট। ||
তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি ইন্দোনেশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজকে নিয়ে নৌ মহড়ার পরিকল্পনা করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই উদ্যোগকে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘সামরিক উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তাইওয়ান। তাইপের অভিযোগ, পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি ভুল ধারণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতেই চীন এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তাইওয়ানের পূর্ব দিকে একটি এলাকায় ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে ‘নৌ চলাচল মহড়া’ হবে। তবে মহড়াটি ঠিক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা জানানো হয়নি।তাইওয়ানের চীনবিষয়ক নীতিনির্ধারণী সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে সামরিক উসকানি হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে চীনকে দ্রুত সরে আসতে হবে।তাইওয়ানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব উপকূলের কাছে তথাকথিত নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার টহলের নামে চীন তাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়ার উদ্যোগ নিয়ে বেইজিং আন্তর্জাতিক মহলে এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চাইছে যে, তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমার ওপর তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে।তাইওয়ানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, মহড়ায় অংশ নেওয়ার কথা বলা ইন্দোনেশীয় যুদ্ধজাহাজটি মূলত চীনের সঙ্গে মহড়ায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসেনি। জাহাজটি জাপান থেকে ফেরার পথে তাইওয়ানের পূর্বদিকে অবস্থান করছে। ওই সময় এটি তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।ওই কর্মকর্তা বলেন, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনায় তাইওয়ানের ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।এদিকে ইন্দোনেশিয়া আসলেই এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে কি না, তা জানতে দেশটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে তাইওয়ান একটি স্বশাসিত গণতান্ত্রিক অঞ্চল এবং তাইপে সরকারের বক্তব্য হলো, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু তাইওয়ানের জনগণের রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানকে ঘিরে চীনা সামরিক বাহিনীর প্রায় প্রতিদিনের তৎপরতায় অঞ্চলটির উত্তেজনা আরও বেড়েছে।বর্তমানে তাইওয়ান তাদের বার্ষিক হান কুয়াং সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। এতে সম্ভাব্য চীনা হামলা মোকাবিলার বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুশীলন করা হচ্ছে। চীন-ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য নৌ মহড়ার খবর এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।একই দিনে মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফ্রি সামসুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে তাইওয়ানে তিন লাখের বেশি ইন্দোনেশীয় অভিবাসী শ্রমিক বসবাস করেন। তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমায় চীন ও ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য যৌথ নৌ মহড়াকে কেন্দ্র করে তাইপের উদ্বেগ আবারও তাইওয়ান প্রণালির উত্তেজনাকে সামনে এনেছে।
তাইওয়ানের আশঙ্কা, সামরিক মহড়ার আড়ালে চীন ধীরে ধীরে ওই এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।সূত্র: আমার দেশ।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত