প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
আজ আকাশে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, বাংলাদেশে দেখা যাবে না
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ইনসাফ টাইমস ২৪ ||
আজ বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬। মহাকাশপ্রেমীদের জন্য দিনটি বিশেষ। আজ ঘটছে ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলোকে পুরোপুরি আড়াল করলে তৈরি হয় এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য। নাসার তথ্য অনুযায়ী, আজকের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সর্বোচ্চ পূর্ণতার সময় প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে।আজকের সূর্যগ্রহণের পূর্ণতার সরু পথ অতিক্রম করবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন এবং আটলান্টিক মহাসাগরের কিছু এলাকা। এসব অঞ্চলে অবস্থানকারী মানুষ দিনের বেলায় কয়েক মিনিটের জন্য সূর্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঢেকে যেতে দেখার সুযোগ পাবেন।এ ছাড়া ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পূর্ণ নয়, আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যের প্রায় ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যেতে পারে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং ইতালির উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।তবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য রয়েছে ভিন্ন খবর। আজকের সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। বাংলাদেশের আকাশে এই গ্রহণের কোনো দৃশ্যমান পর্যায় থাকবে না বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যসূত্র জানিয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বড় একটি অংশে দিনটি স্বাভাবিক দিনের মতোই থাকবে।সূর্যগ্রহণ কেন হয়—এ নিয়েও রয়েছে চমৎকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এমনভাবে অবস্থান করে যে তিনটি প্রায় একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর নির্দিষ্ট অংশে পড়ে। সেই ছায়ার কেন্দ্রীয় অংশে থাকা মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। আর ছায়ার বাইরের অংশে থাকা মানুষ দেখতে পান আংশিক গ্রহণ।পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হলো সূর্যের করোনা বা বহিরাবরণ। স্বাভাবিক সময়ে সূর্যের প্রচণ্ড উজ্জ্বল আলোর কারণে করোনা খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু চাঁদ যখন সূর্যের আলোকিত অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়, তখন করোনার সূক্ষ্ম আলোকচ্ছটা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানীরা এই সময় সূর্যের বহিরাবরণ পর্যবেক্ষণ করে সূর্যের চৌম্বকীয় কার্যকলাপ ও সৌরবায়ু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পান।আজকের গ্রহণ ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গবেষক ও সাধারণ মহাকাশপ্রেমীরা গ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছেন। নাসাসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানও গ্রহণের সময় সূর্য পর্যবেক্ষণ ও গবেষণামূলক কার্যক্রম চালাবে।তবে সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ সানগ্লাস, ক্যামেরার সাধারণ ফিল্টার বা খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। সূর্যের আলো সরাসরি চোখে পড়লে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই গ্রহণের আংশিক পর্যায় দেখার সময় অবশ্যই অনুমোদিত সোলার ভিউয়ার বা ISO-সনদপ্রাপ্ত সোলার ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা না গেলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অনলাইন লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে গ্রহণের দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে।জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যগ্রহণ একটি স্বাভাবিক ও পূর্বনির্ধারিত মহাজাগতিক ঘটনা। এটি কোনো অশুভ সংকেত নয়। বরং পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের নির্দিষ্ট কক্ষপথগত অবস্থানের ফলেই এমন বিরল দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।আজকের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মহাকাশপ্রেমীদের নজর থাকবে ভবিষ্যতের গ্রহণগুলোর দিকে। তবে ১২ আগস্টের এই গ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এবং এর পূর্ণতার পথ পৃথিবীর তুলনামূলকভাবে অল্প কিছু স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে।বাংলাদেশ থেকে দেখা না গেলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আজ আকাশজুড়ে তৈরি হবে মহাজাগতিক বিস্ময়—সূর্যের সামনে চাঁদের ছায়া, আর দিনের আলোয় কয়েক মুহূর্তের জন্য নেমে আসবে রাতের আবহ।
ইনসাফ টাইমস ২৪-এর সঙ্গে থাকুন মহাকাশ, বিজ্ঞান ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ জানতে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত