প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগুনে বোলিংয়ের রহস্য জানালেন হাসান মাহমুদ
স্টাফ রিপোর্টার। ||
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার কয়েকদিন আগেও হাসান মাহমুদ ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলবেন, সেটিও হয়তো ভাবেননি তিনি। কিন্তু পরিশ্রম ও ভাগ্যের সমন্বয়ে সেই হাসানই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দিন বল হাতে ঝড় তুলে নেন। শিকার করেন ৬ উইকেট। ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর নিজের সাফল্যের কারণও জানিয়েছেন তিনি।কয়েকদিন আগে সাকিব আল হাসান ইউটিউব চ্যানেল ‘সিম্পলি সাঈদ’-এর পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পেস বিপ্লবের সময়ে হাসান মাহমুদকে নিজের চোখে সবচেয়ে ভালো পেসার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সেই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই বল হাতে তার প্রমাণ দিলেন হাসান। সাকিব বলেছিলেন, ‘হাসান আমার কাছে মনে হয় পারফেক্ট। আমাদের পেস বোলারদের মধ্যে অনেক বেশি ভালো। এটা আমি ফিল করি।’নাহিদ রানা না থাকায় আক্ষেপ ছিল অনেকেরই। তবে হাসান যে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের এভাবে বিপাকে ফেলবেন, তা হয়তো কেউ ভাবেননি। সাকিবের কথাকে সত্যি প্রমাণ করে একে একে অস্ট্রেলিয়ার ৬ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এক ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অন্তত ৫ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি ফাস্ট বোলারও হয়েছেন হাসান। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি।ইনিংস বিরতির সময় হাসান নিজের সাফল্যের পেছনের কারণ জানান। এ ক্ষেত্রে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি। শান্ত যেভাবে বল করার নির্দেশনা দিয়েছেন, লক্ষ্মীপুরের এই পেসার সেভাবেই বোলিং করার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি অন্য দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকেও পেয়েছেন সঙ্গ ও সমর্থন।অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে কথোপকথনে ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে তিনি খুবই রোমাঞ্চিত ছিলেন। এই কন্ডিশনে খেলার সুযোগকে বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেছেন তিনি। নিজের লাইন-লেন্থ ঠিক রাখা, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং অধিনায়কের নির্দেশনা মেনেই বল করার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, এটাই কাজে দিয়েছে। পাশাপাশি অন্য দুই পেসারও নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন।সম্প্রতি ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলেন হাসান। সেখান থেকেই যেন তার স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। কেন্টের হয়ে আবারও খেলার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। ভবিষ্যতে কেন্টের হয়ে আরও খেলার আশা রয়েছে তার।টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নামার পর দলীয় রান অর্ধশতকের কাছাকাছি পৌঁছাতেই জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়ে দেন হাসান। কিছুক্ষণ পর ট্রাভিস হেডকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। এরপর প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়নের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হিসেবে স্টিভ স্মিথকেও শিকার করেন এই পেসার। হাসানের বোলিং তোপেই শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
সূত্র: কালবেলা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত