প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
পাইকগাছায় শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আইনি জটিলতার অবসান
মোঃ হাবিবুল্লাহ গাজী, উপজেলা প্রতিনিধি পাইকগাছা ||
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে স্বপদে বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর ম্যানেজিং কমিটি বোর্ডের নির্দেশনা ও প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি তৎকালীন সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়।তবে নিয়োগের পর তার যোগদানে বাধা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান ২০১৯ সালে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৮৩৫৫/২০১৯। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায় তার পক্ষে যায়।হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী রানী শীল সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করেন। মামলাটির নম্বর ৩০২০/২০১৯। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এরপরও বিষয়টি নিয়ে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়, যার নম্বর ১৬১/২০২১। গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রিভিউ পিটিশনটির শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মনিরুজ্জামানকে স্বপদে বহালের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়।আদালতের আদেশের পর প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান গত ১১ আগস্ট স্বপদে যোগদানের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মুঃ এনামুল কবীর স্বাক্ষরিত ৬/৩৭২৪/২৫৮ নম্বর স্মারকে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে মনিরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।বোর্ডের ওই চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়; মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে, মনিরুজ্জামানকে স্বপদে বহালের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনার খবর প্রকাশের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী রানী শীল বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে অঞ্জলী রানী শীলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।দীর্ঘদিনের এই বিরোধ ও আইনি জটিলতার কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আদালতের আদেশ ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত