প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের দমানো সম্ভব নয়: নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী
স্টাফ রিপোর্টার। ||
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা ‘আবাবিল পাখির মতো’। সরকার কিংবা দেশের বাইরের কোনো পক্ষ—কেউই তাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবির সমাধান সংসদের চেয়ে রাজপথেই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী।তিনি বলেন, এসব সমস্যার সমাধান পার্লামেন্টে হবে বলে তিনি মনে করেন না। ভবিষ্যতে রাজপথেই এর সমাধান করতে হবে।ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে পাটোয়ারী বলেন, তাদের দমানোর ক্ষমতা সরকারেরও নেই, আবার বাইরের কোনো পক্ষেরও নেই।তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি যখন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলেন, তখন কেউ তাঁর সঙ্গে ছিলেন, আবার কেউ ছিলেন না। তবে সময় যত যাবে, মানুষের কাছে শহীদ ওসমান হাদির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে।ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে নিজের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, গণভবনের সামনে অবস্থানের সময় তাদের সঙ্গে তাঁর মেশার সুযোগ হয়েছিল।পাটোয়ারীর ভাষ্য, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা সাহসী এবং একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে কাজ করছে। আদর্শ, ন্যায়, নীতি ও ইনসাফের বিষয়ে তারা শহীদ ওসমান হাদির মর্যাদার সঙ্গে কোনো আপস করেনি।তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বলে গিয়েছিলেন, তিনি না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের রেখে গেছেন।পাটোয়ারীর দাবি, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সংখ্যা কম নয়। তাদের সঙ্গে দেশের লাখো মানুষ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোটি কোটি মানুষ তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে।শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে জনসাধারণের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাটোয়ারী বলেন, বিরোধী দল ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে প্রথমেই জানতে চান—শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার কবে হবে।তিনি বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হলেও শুধু সংসদে এর সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন না। জনগণের রাজপথের কণ্ঠস্বরই ভবিষ্যতে এই দাবির সমাধানের পথ তৈরি করবে।পাটোয়ারীর মতে, বাংলাদেশের সামনে রাজপথ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। ভবিষ্যতে জনগণের এই আওয়াজ ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে আরও জোরালো হবে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংগঠনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাদ ফজর শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মুনাজাত পরিচালনা করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের।মুনাজাতে শহীদ ওসমান হাদিসহ জুলাই অভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।দিনের পরবর্তী কর্মসূচিতে ছিল লাঞ্চ ব্রেক ও ‘আজাদীর মেলাকাত’। দুপুর ২টায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়।এরপর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অভিমত পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ‘আঘাত-শ্রাবণ জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।সন্ধ্যা ৭টায় ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক মঞ্চ নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শেষ পর্বে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বিশেষ আয়োজন ‘ইশক-এ ইনকিলাব’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনে সংগঠনটির গত দুই বছরের পথচলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত