প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
বিএনপি ও সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি
স্টাফ রিপোর্টার। ||
প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রাথমিক সদস্যসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল।জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন—বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে।বিএনপি ও সরকারের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সচিবালয় মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিবের দায়িত্ব কে নেবেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে গত কয়েক দিন ধরে তিন নেতার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে অথবা কাউন্সিলকে ঘিরে প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দিতে পারে দলটি। পরবর্তীতে জাতীয় কাউন্সিলে কিংবা কাউন্সিলের কাছাকাছি সময়ে মহাসচিব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।রুহুল কবির রিজভী এবারের নির্বাচনে অংশ নেননি এবং তাকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি। ফলে মহাসচিব পদ শূন্য হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক দায়িত্বশীল নেতা।বিএনপিতে এর আগেও এমন নজির রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একসময় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি ভারমুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পান।মহাসচিব পদ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। তবে দুজনই তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে তাদের কাউকে মহাসচিব করা নাও হতে পারে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করার পর তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুন কাউকে দেওয়া হবে, নাকি বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত স্পষ্ট নয়।সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ ৯০। ফলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত।এই পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন—এটি অনেকটাই পরিষ্কার।গত ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
সূত্র: ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত