প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০ আমল
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ইসলামি সংস্কৃতিতে জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি শুধু ছুটির দিন নয়; বরং আত্মিক জাগরণ, পাপমুক্তি এবং মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সুন্নত ও আমলের মাধ্যমে দিনটি ইবাদতে পরিপূর্ণ করা যায়।আল্লাহ তাআলা বলেন, জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে মুমিনদের আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে এবং বেচাকেনা ও অন্যান্য দুনিয়াবি কাজ ছেড়ে দিতে। নামাজ শেষ হলে জমিনে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে এবং বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সুরা জুমআ : আয়াত ৯-১০)জুমার দিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো—১. নখ কাটা ও পরিচ্ছন্ন থাকাজুমার দিনের প্রস্তুতি শারীরিক পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে শুরু করা উত্তম। গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা ও পরিপাটি থাকা সুন্নতি অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) মানব স্বভাবের (ফিতরাত) পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই জুমার দিনে নখ কেটে শরীর পরিষ্কার করে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হওয়া উত্তম। (সহিহ বুখারি: ৫৮৮৯)২. ভালোভাবে গোসল করাজুমার জামাতে অনেক মানুষের সমাগম হয়। তাই শরীর সতেজ ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। নবীজি (সা.) জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করার প্রতি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ জুমার নামাজে যাওয়ার ইচ্ছা করলে যেন গোসল করে নেয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৪৪)ভালোভাবে গোসল করার মাধ্যমে দৈহিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মনও ইবাদতের জন্য প্রফুল্ল হয়।৩. পরিষ্কার পোশাক, মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহারসাপ্তাহিক উৎসবের দিন হিসেবে পরিষ্কার বা উত্তম পোশাক পরা, মিসওয়াক করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর কর্তব্য। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)৪. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করাজুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠের বিশেষ বরকত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বিশেষ আলোর দ্যুতি থাকবে, যা ফিতনা থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করে। (মুস্তাদরাকে হাকিম: ৩৩৯২)৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করাজুমার দিনে মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেছেন, জুমার দিন দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এ দিনে নবী আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এ দিনেই তার ওফাত হয়েছিল। তাই এ দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উচিত; কারণ বান্দাদের দরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)৬. মসজিদে আগে যাওয়াজুমার দিনে দ্রুত মসজিদে পৌঁছানো বড় সওয়াবের আমল। মহানবী (সা.) জানিয়েছেন, জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় অবস্থান করেন এবং আগত ব্যক্তিদের নাম ক্রমানুসারে লিখতে থাকেন। প্রথম আগমনকারী একটি উট কুরবানি করার সওয়াব পান। এরপর আগত ব্যক্তি গাভী, তারপর দুম্বা, তারপর মুরগি এবং সর্বশেষ ডিম দান করার সমপরিমাণ সওয়াব পান। ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা তাদের লেখা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১)৭. হেঁটে মসজিদে যাওয়াসম্ভব হলে যানবাহনের পরিবর্তে হেঁটে মসজিদে যাওয়া উত্তম। ঘরে সুন্দরভাবে অজু করে মসজিদের উদ্দেশে হাঁটলে প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে পাপ ঝরে যায় এবং জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। (সহিহ মুসলিম: ৬৬৬)৮. মনোযোগ দিয়ে জুমার খুতবা শোনাখুতবার সময় নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা ওয়াজিব। এ সময় কথা বলা, অন্য কাউকে চুপ করতে বলা কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয় এবং এতে জুমার সওয়াব কমে যায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কেউ যদি পাশের ব্যক্তিকে ‘চুপ থাকো’ বলে, তাহলে সেও অনর্থক কাজে লিপ্ত হলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪)৯. যথানিয়মে জুমার নামাজ আদায় করাজামাতের সঙ্গে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা মুসলিম পুরুষের ওপর আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন, জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে মুমিনদের আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যেতে এবং বেচাকেনা ও কাজকর্ম বন্ধ করতে। এটাই তাদের জন্য উত্তম। (সুরা জুমুআ, আয়াত: ৯)জুমার নামাজ গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা ঈমানের অন্যতম দাবি।১০. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খোঁজাজুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো বান্দা কল্যাণকর দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন। হাদিসের অধিকাংশ বর্ণনা অনুযায়ী, সময়টি আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত বা মাগরিবের আগ পর্যন্ত। তাই এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।মহানবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে ভালো কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। মহানবী (সা.) হাতের ইশারায় বোঝান যে সময়টি খুবই সংক্ষিপ্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫)অন্য একটি হাদিসে এসেছে, এই বিশেষ সময়টি আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত বা মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)তাই জুমার দিন আসরের নামাজের পর বেশি বেশি দোয়ায় মগ্ন থাকা উচিত।
সূত্র: ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত