প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা ঝুঁকিপূর্ণ: মামুনুল হক
স্টাফ রিপোর্টার। ||
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রাখা, সরকারি নিয়োগে দলীয় প্রভাব বন্ধ করা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস উপজেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সারা দেশে নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে দুটি বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে চায়। এর প্রথমটি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয়টি হলো তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং সরকারকে সতর্ক করা।তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ এখনো শেষ হয়নি। মানুষের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য শুধু সরকার পরিবর্তন ছিল না; রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং দেশের ওপর যেকোনো ধরনের আধিপত্যের অবসান ঘটানোও এর লক্ষ্য ছিল।মামুনুল হক আরও বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণ দুটি পৃথক ব্যালটে তাদের মতামত দিয়েছে। সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হলে গণভোটে দেওয়া জনগণের মতামতও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। গণভোটের রায় উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।তিনি বলেন, গণভোটে বাংলাদেশের জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা দল স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদীভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে।মামুনুল হক বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সরকারি নিয়োগে দলীয় বিবেচনার সুযোগ থাকবে না এবং পুলিশ ও প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।সরকারি নিয়োগে দলীয় প্রভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তাদের রাজনৈতিক কর্মীদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পরিবর্তে রাষ্ট্র ও জনগণের কাছে দায়িত্বশীল হতে হবে।তিনি বলেন, আগামী দিনের নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।মামুনুল হক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিপুল মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, সেটিকে শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে যেতে চায় না। তবে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দলটি নীতিগত অবস্থান থেকে কোনো আপস করবে না।মামুনুল হক বলেন, তারা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নন; বরং একটি বৈষম্যমূলক ও এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন চান। এমন কোনো ব্যবস্থা তারা চান না, যা ভবিষ্যতে কোনো শাসককে আবার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ করে দেবে।ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায়। তবে বাংলাদেশের ওপর কোনো ধরনের আধিপত্য বা হস্তক্ষেপ জনগণ মেনে নেবে না।তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বন্ধুত্ব করতে চাইলে বাংলাদেশ উত্তম বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।সমাবেশে করিমগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ দ্বীন ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী এবং বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ইনসাফ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত