প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
১৫ আগস্টের সেই ভোর: স্মৃতিতে শেখ সাহেব ও ৩২ নম্বর
স্টাফ রিপোর্টার। ||
১৪ আগস্টের রাত পেরিয়ে ১৫ আগস্টের ভোর। আসাদ গেট নিউ কলোনি মসজিদের সামনে, মিরপুর রোডের পাশে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এলো কয়েক দফা গোলাগুলির শব্দ। যারা কিছুক্ষণ পর মর্নিং ওয়াকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, সবাই শব্দে চমকে উঠলাম। শব্দটি আসছিল ৩২ নম্বর রোডের দিক থেকে। আমাদের নিউ কলোনি থেকে জায়গাটি মাত্র একটি বাসস্টপ দূরে; মাঝখানে শুধু লালমাটিয়া।শব্দ শুনেই আমার মনে হলো, গুলির আওয়াজ শেখ সাহেবের—তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের—৩২ নম্বর রোডের বাড়ির দিক থেকেই আসছে। তখন একজন মন্তব্য করলেন, হয়তো জামালের বিয়ের আনন্দে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো হচ্ছে।শেখ সাহেব আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন। আমাদের জন্মের বহু আগে থেকেই আমার বাবা তার সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সহযোদ্ধা হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই আমরাও তাকে ‘শেখ সাহেব’ বলে ডাকতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম। তিনি আমাদের কাছে অনেকটা চাচার মতোই ছিলেন। পরবর্তীকালে তাকে নানা উপাধিতে ভূষিত করা হলেও আমাদের পুরোনো সেই সম্বোধনই থেকে যায়—‘শেখ সাহেব’।শেখ সাহেবের মেজ ছেলে জামাল কয়েক বছর আগে, আমরা যখন স্কুলে পড়তাম, তখন আমাদের পাড়ার ক্রিকেট ক্লাবে খেলতে আসতেন। সে সময় তিনি সম্ভবত ছোট ছেলে ছিলেন। তার সবচেয়ে ছোট ভাই তখনও জন্মায়নি, অথবা জন্মালেও আমরা জানতাম না।আমাদের ক্রিকেট ক্লাবের তখন বেশ সুনাম ছিল। নাম ছিল ‘নিউ কলোনি ক্রিকেট ক্লাব’, সংক্ষেপে এনসিসি। নামটি সেকালের বিশ্বখ্যাত ইংল্যান্ডের ‘এমসিসি’ বা ম্যারিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের নামের সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছিল। শুধু নামেই নয়, আমাদের ক্রিকেটাররাও ভালো খেলতেন।ঘটনাচক্রে আমি স্পিন বোলার হয়ে উঠেছিলাম। ছোটবেলা থেকেই আমার কবজি কিছুটা দুর্বল ছিল। ফলে বল করার সময় বল নিজে থেকেই স্পিন করত। এক অর্থে দুর্বলতাই সুবিধায় পরিণত হয়েছিল এবং স্পিন বোলার হিসেবে দলের মধ্যে আমার আলাদা কদর তৈরি হয়। তবে আমাদের দলের মূল ভালো ক্রিকেটার ছিলেন বাবু এবং তার বড় ভাই খোকা।লালমাটিয়া পেরিয়ে জামাল আমাদের এলাকায় ক্রিকেট খেলতে আসতেন। একবার কোনো একটি বিষয় নিয়ে আমাদের পাড়ার এক ছেলের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল। ওই ছেলে জামালের সাইকেল আটকে রেখেছিল। বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি।পরবর্তীতে শেখ সাহেব দেশের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠলেন এবং পরে রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী রাষ্ট্রপতি হলেন। তখন জামালের সঙ্গে আমাদের আর যোগাযোগ ছিল না। একসময় তিনি সামরিক কর্মকর্তা হওয়ার প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে যান। যতদূর মনে পড়ে, সেটি ছিল মার্শাল টিটোর সময়ের যুগোস্লাভিয়া। দেশে ফিরে তার বিয়ের আয়োজন হয়। বিয়েটি হয়েছিল খুব সম্প্রতি। তাই ১৫ আগস্টের ভোরে গোলাগুলির শব্দ শুনে কারও কারও মনে হয়েছিল, হয়তো জামালের বিয়ের আনন্দে সেখানে পটকা ফোটানো হচ্ছে।তবে বিয়ে শুধু জামালেরই ছিল না; আমার ব্যাচমেট শেখ কামালেরও বিয়ে হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর জামালের পরিবর্তে কামাল হয়ে ওঠেন আমার সতীর্থ।জামালকে আর দেখিনি, কিন্তু ঢাকা কলেজে কামালকে দেখতাম। তার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না থাকলেও আমরা একই ক্লাস ও ব্যাচের ছাত্র ছিলাম। কামাল বেশ দুষ্টু প্রকৃতির ছিলেন। একবার কলেজের প্রিন্সিপাল জালাল স্যারকে তিনি এমনভাবে বিরক্ত করেছিলেন যে পরিস্থিতি নাজেহাল পর্যায়ে পৌঁছেছিল।ঘটনার পুরোটা এখন আর মনে নেই। যতদূর স্মরণ করতে পারি, কলেজে কালো পতাকা ওড়ানোর কোনো ঘটনার সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কিত ছিল। ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কলেজের শৃঙ্খলা ভেঙে এমন ঘটনা আগে কেউ ঘটায়নি বলেই সম্ভবত প্রিন্সিপাল জালাল স্যার ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তিনি কামালকে ধরতে পেছনে ছুটেছিলেন। কামাল এক করিডোর থেকে আরেক করিডোরে দৌড়াচ্ছিলেন, আর তার পেছনে ছুটছিলেন প্রিন্সিপাল। কিন্তু তাকে ধরতে পারছিলেন না। দৃশ্যটি ছিল বেশ মজার।আমার হাইস্কুল জীবনের কিছুটা বড় ক্লাসের ছাত্র ‘মুখতার ভাই’ পরে কলেজে এসে কামালের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। একদিন তার সঙ্গে কামাল আমাদের কাছে এসে একটি লেখা চেয়েছিলেন। তিনি একটি সংকলন প্রকাশ করবেন বলে সেটির জন্য লেখা প্রয়োজন ছিল। আমি তাকে একটি লেখা দিয়েছিলাম।তখন শেখ সাহেব আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হয়ে বন্দি ছিলেন। সেই সময়ে অনেকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতেন। বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগত না।এরই মধ্যে শেখ সাহেবের বড় মেয়ে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। সেই বিয়ের আয়োজন ছিল বেশ সাদামাটা। শেখ সাহেব কারাগার থেকে মাত্র একটি আংটি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন বলে জানা যায়। সে সময় তাদের পরিবারের অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্দিনের।অন্যদিকে ১৯৭৫ সালে কামাল ও জামালের বিয়ে হয়েছিল অনেক বেশি জাঁকজমকের সঙ্গে। বিয়েতে তাদের সোনার মুকুট পরানো হয়েছিল। তখন দেশে দুর্ভিক্ষ চলছিল। সেই সময় বিয়েতে তুলনামূলকভাবে বিপুল খাবারের আয়োজন এবং বরদের মাথায় মুকুট পরানোর ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। একই সময়ে দুর্ভিক্ষে মানুষের মৃত্যুর ছবিও প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।কামালের বিয়ে হয়েছিল সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রুশ ভাষা শেখার সময়কার আমার সহপাঠিনী সুলতানার সঙ্গে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী, সুশীল ও ক্রীড়াবিদ। ফলে ওই বাড়িতে তখন বিয়েকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উৎসব চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে পটকার শব্দ শোনা অস্বাভাবিক মনে হওয়ার কথা ছিল না। তাই কেউ হয়তো সেই কারণেই বলেছিলেন, ‘জামালের বিয়ের পটকা!’কিন্তু আমার মনে হঠাৎ অস্বস্তি তৈরি হলো। আমি বললাম, ‘না—৩২ নম্বরে কিছু একটা হয়েছে!’সে সময় আমি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক-সম্মান শেষ করে রাজনীতি বিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতকোত্তরের ছাত্র ছিলাম। এসব বিষয়ে আমার সহপাঠীদের তুলনায় অনেক বেশি পড়াশোনা করতাম। রাজনৈতিকভাবে সচেতন পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা। আমার বাবা ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে জিন্নাহ সাহেব ও সোহরাওয়ার্দী সাহেবের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে শেখ সাহেবের মতোই সহযোদ্ধা ছিলেন। পরবর্তীতে হক সাহেব ও ভাসানী সাহেবসহ তাদের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তবে ১৯৫৮ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিনি পুরোপুরি রাজনীতি থেকে সরে যান।এসব পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে আমার মধ্যে রাজনৈতিক বিষয় বোঝার একটি তীক্ষ্ণতা তৈরি হয়েছিল। সে সময় জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’য় আমি নিয়মিত একটি জনপ্রিয় কলাম লিখতাম। এর কিছুদিন আগেই একটি লেখায় ইঙ্গিত করেছিলাম, দেশের অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান হয়তো সামরিক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঘটতে পারে। শেষ পর্যন্ত তেমনটাই ঘটেছিল। তবে পরিস্থিতি যে এত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা আমি নিজেও ভাবতে পারিনি।তাই বুঝতে পারলাম, এটি জামাল-কামালের বিয়ের আনন্দের পটকার শব্দ নয়। আমার আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে—৩২ নম্বরে বড় কিছু ঘটেছে।আমি তখন পায়ে হেঁটেই ৩২ নম্বরের দিকে রওনা হলাম। ছাত্রজীবনে রিকশা ডেকে ওঠার অভ্যাস ছিল না। আর আমাদের বাসা থেকে ৩২ নম্বর এমনিতেই হাঁটাপথের কাছাকাছি ছিল।সোবহানবাগ মসজিদের সামনে পর্যন্ত যেতে পেরেছিলাম। এরপর সামনে বাধা তৈরি হওয়ায় আর এগোতে পারিনি।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কয়েক দিন পর থেকেই প্রায় প্রতিদিন ৩২ নম্বরে যেতাম এবং অনেক রাত পর্যন্ত সেখানে থাকতাম। দেশের ইতিহাসে যে ঘটনাগুলো ঘটছিল, সেগুলো নিজের চোখে দেখা ও মনে রাখার তাগিদ থেকেই সেখানে যাওয়া হতো। ২৫ মার্চ রাতেও সাড়ে ৮টা বা তার কিছু পর পর্যন্ত সেখানে ছিলাম, শেখ সাহেবের গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের অল্প আগে পর্যন্ত।পরে পাকিস্তানে নজরবন্দি থাকার পর তিনি মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে তার অবতরণের পর তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে অধিষ্ঠিত হন। এরপর থেকে তার ক্ষমতায় থাকা এবং পরবর্তীতে ভয়াবহভাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দিন পর্যন্ত আমি আর ৩২ নম্বরে যাইনি।ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে দূরে থাকা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ ছিল। ছোটবেলা থেকেই এই শিক্ষা পেয়েছিলাম। এর মাধ্যমে চাটুকারিতা ও লেজুড়বৃত্তির পথে অসৎ উপার্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে থাকা যায়—যা জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত মানুষের দায়িত্ব বলে মনে করতাম।শেখ সাহেবের পরিবারের সদস্যদের হত্যার খবর শুনে আমি সেদিনের বাস্তবতাকে অন্যভাবে উপলব্ধি করছিলাম। কিছুদিন আগেই রেডিওতে খণ্ডকালীন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম। তখন রেডিওর অফিস ছিল শাহবাগে। সেদিন কাজে যাওয়ার পথে বাসার কাছেই শুনলাম, সৈন্যরা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ সাহেব এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এমনকি সবাই যার ভয়ে কাঁপত, সেই শেখ মণিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে শুনলাম।রাস্তায় দেখলাম, কোথাও কোথাও মানুষ মিষ্টি বিতরণ করছে। বিভিন্ন জায়গায় লোকজন জড়ো হয়ে আলোচনা করছে। আমার মনে প্রশ্ন জাগল—কেউ মারা গেলে মানুষ এভাবে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করে কীভাবে?তখন কয়েক বছর আগের একটি স্মৃতি মনে পড়ল। সম্ভবত ক্লাস টেনে ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে ‘Patriot’ নামে একটি কবিতা পড়েছিলাম। আমাদের হেডমাস্টার সাহেব ইংরেজি পড়াতেন। কবিতাটিতে একজন দেশপ্রেমিকের দুটি ভিন্ন সময়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল—প্রথমে তিনি বীরের বেশে জনতার প্রশংসা ও ভালোবাসা নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন, পরে জনতার ঘৃণার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।ইতিহাস শেখানোর সেই পদ্ধতির নির্মমতা তখন আমার মনে পড়ে গেল।১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ সাহেবের দেশে ফেরার দৃশ্যও চোখের সামনে ভেসে উঠল। সেদিন তাকে স্বাগত জানাতে মানুষের বিশাল সমাগম হয়েছিল। অথচ মাত্র সাড়ে তিন বছর পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার মৃত্যুর দিনে আমি তার বাড়ির কাছেও যেতে পারলাম না। বরং দেখলাম, কোথাও কোথাও মানুষ মিষ্টি বিতরণ করছে।একসময়কার খেলার সঙ্গী জামাল, আমার সহপাঠী কামাল এবং আমার সহপাঠিনী সুলতানা—কেউ আর নেই। শেখ সাহেবও নেই।শাহবাগে চাকরিতে গিয়ে দেখলাম, রেডিও অফিসের সামনে কিছু শ্রমিক ও কর্মচারী ছিলেন, সম্ভবত তারা কাজে যাচ্ছিলেন। অফিসের সামনের ফুটপাতে কয়েকজন সৈন্য বসে ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল বন্দুক। শুনলাম, তারাই নাকি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে এসব করেছে।তারা নাকি বলছিলেন, তারা ক্ষমতা নিতে চান না। দেশের জন্য যা করার দরকার ছিল, তারা করে দিয়েছেন; এখন দেশের মানুষ এসে ক্ষমতা গ্রহণ করুক।কিন্তু প্রশ্ন হলো—দেশের সাধারণ মানুষ কি কখনো সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে?ইতিহাসের অভিজ্ঞতা হলো, জনগণের নামে প্রায় সব সময়ই কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠী ক্ষমতা গ্রহণ করে। কখনো তা প্রকাশ্যভাবে ঘটে, আবার কখনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আড়ালে থেকে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সব দেশ ও সব সময়ের ইতিহাসেই এমন উদাহরণ রয়েছে।জনগণের জন্য সর্বোচ্চ যা অর্জন করা সম্ভব, তা হলো জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ রাজর্ষি-জ্ঞানীদের স্নেহপূর্ণ অভিভাবকত্ব এবং সৎ ও সাহসী তরুণদের সক্রিয় সুরক্ষা ও সেবার মাধ্যমে নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার নিশ্চয়তা তৈরি করা।এ জন্য প্রয়োজন জনগণের অবচেতন মনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পুনর্জাগ্রত করার অবিরাম প্রচেষ্টা।
লেখক: ঢাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও গবেষক; ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ; সংবিধান ও মানবাধিকারবিষয়ক আইনজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
সূত্র: আমার দেশ।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত