প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী বদল, হরমুজে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
ডেক্স রিপোর্ট। ||
দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থান করায় নাবিকদের মানসিক চাপসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনরত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে সেখানে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।তবে এই রদবদলের মধ্যেই ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু না হলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। যদিও হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মার্কিন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, জলপথটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুরোপুরি বন্ধ।ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ দিয়ে কোনো মার্কিন জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৪০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করছে। এ কারণে জাহাজটির পানিদূষণ, পানীয় জলের সংকট, প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যানের ভাষ্য, প্রায় ২০০ দিন বন্দরে না গিয়ে সমুদ্রে থাকার কারণে যুদ্ধজাহাজটির সক্ষমতা ও প্রস্তুতি কমে গেছে। এ কারণেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেন, পর্যায়ক্রমে রণতরী পরিবর্তন করা হলেও ইরানের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের নৌ অবরোধ চালু রাখা হবে।একই দিনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ রোববার (১৬ আগস্ট) শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নতুন করে আলোচনার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে মাত্র আটটি জাহাজ চলাচল করেছে। আর গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে। এতে হরমুজের ওপর উভয় পক্ষের নিয়ন্ত্রণের দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে দেশটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিকে দর-কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছে তেহরান।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত