প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ভাবনায় মিয়ানমার
ডেক্স রিপোর্ট। ||
বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার। দেশটির দাবি, এসব রোহিঙ্গা পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে যাচাই করা বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।শনিবার (১৫ আগস্ট) রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছরে প্রবেশের সময় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দিয়েছে।২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী একটি গোষ্ঠীর হামলার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করে। সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে তারা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।ওই সামরিক অভিযানের সময় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আগে থেকেই অবস্থানরত আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে যুক্ত হয়। এসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আগের বিভিন্ন সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে কয়েক দশক ধরে সেখানে অবস্থান করছিল।অভিযানের ব্যাপকতা, পরিকল্পিত ধরন ও ভয়াবহতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ আনে। বার্মা নামে পরিচিত মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশটির স্বীকৃত ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বরং তাদের ‘বাঙালি’ বলে দাবি করে আসছে।এর মাধ্যমে সামরিক শাসিত দেশটি রোহিঙ্গাদের মূলত বাংলাদেশের নাগরিক এবং মিয়ানমারে অবৈধভাবে বসবাসকারী হিসেবে দাবি করে আসছে।মিয়ানমার জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যে তালিকা দিয়েছে, তাতে থাকা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যাচাই করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে তথাকথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে মিয়ানমার।তবে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার দাবিও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। আর ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই থেকে গিয়েছিল।২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা সফল হয়নি।২০২৩ সালে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক জাতিগত গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে জীবন বাঁচাতে আরও বেশি সংখ্যক শরণার্থী বাংলাদেশসহ অন্যান্য স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা দখল করে আরাকান আর্মি রাখাইনের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এদিকে শরণার্থী শিবিরগুলোর দুরবস্থা, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ক্রমেই বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে জরাজীর্ণ নৌকায় করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাইয়ের শেষ দিকে জানিয়েছিলেন, প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মতি জানিয়েছে।তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং ওই সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুধু মালয়েশিয়ার আটক কেন্দ্রে থাকা মিয়ানমারের যাচাইকৃত নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের খবরও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত