প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার। ||
আজ ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয় বর্তমান সরকার। নতুন কোনো সরকারের শুরুর সময়টিতে সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট মাইলফলক সামনে থাকে। সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে নিজেদের অবস্থান যাচাই করতে সরকারগুলো ১০০ দিন, ১৫০ দিন, ছয় মাস কিংবা ১৮০ দিনের মতো সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজ করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারও এর বাইরে নয়।সরকারের প্রথম ১০০ দিন শেষে প্রেস উইংয়ের এক ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছিল, ওই সময়ের মধ্যে তারেক রহমানের সরকার দেশের মানুষের সামনে আশাবাদ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। তখন দুই শতাধিক উদ্যোগ ও প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানানো হয়। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন জনজীবন ও সমাজে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলেও দাবি করা হয়েছিল। ৩১ পৃষ্ঠার একটি ই-বুকে এসব কার্যক্রমের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড এবং বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছিল। প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা এটিকে সরকারের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডের দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন।ওই ই-বুকের শুরুতে নির্বাচনের আগে ২৯ জানুয়ারি তারেক রহমানের দেওয়া একটি বক্তব্যও যুক্ত করা হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘১২ তারিখ ধানের শীষের বিজয় হলে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন।’এরপর সরকারের ১৫০ দিন বা পাঁচ মাস পূর্তিতে সরকারের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন প্রেস ব্রিফিংয়ে পাঁচটি সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাসে জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন অর্জন, নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা, স্বল্প সময়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনবদ্য সাফল্য, জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং গণমানুষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব—এই পাঁচটি দিক দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।’তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো পুনরুদ্ধারের ম্যানডেট পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন।’এবার সরকার ছয় মাস বা ১৮০ দিনের মাইলফলক অতিক্রম করায় সরকারের পক্ষ থেকেও নিজেদের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে—এটাই স্বাভাবিক। ছয় মাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত একটি ডেটলাইন। দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই সময়ের মধ্যে একাধিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছিলেন। তার টিমের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের জন্যই এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন তিনি।দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সরকারের দাবি, ‘এই সময়ে নীতিনির্ধারণে দ্রুততা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত, প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। কারণ সরকারের বিশ্বাস, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য—‘যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে, আমরা সেসব পরিকল্পনাই গ্রহণ করব’—উল্লেখ করে সরকারি ব্রিফিংয়ে শুরু করা বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে।বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতৃত্বের আচরণ, ব্যক্তিগত জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আচরণকে ভিন্নধারার নেতৃত্বচর্চা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তার নেতৃত্বে ভদ্রতা, সংযম, সৌজন্য, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও জনপরিসরে তার আচরণকে সরল জীবনধারা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ১৭ বছর বিলেতে উন্নত গণতান্ত্রিক পরিবেশে থাকার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলেছে বলে এসব দৃষ্টান্তে প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির তুলনায় এগুলো ভিন্নধারার নেতৃত্বের ইঙ্গিত বহন করছে।সরকারি বাসভবনের বদলে ব্যক্তিগত বাসভবন ব্যবহার, ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো এবং নিজের খরচে জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগকে ব্যতিক্রমী প্রশাসনিক চর্চা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, চলাচলের সময় সিগন্যালে অপেক্ষা করা, হেঁটে অফিসে যাওয়া এবং অফিস শেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘটনাগুলোও জনসম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সাপ্তাহিক কার্যদিবসের অংশ হিসেবে শনিবার অফিস করার সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, কর্মগতিশীলতা এবং সেবা দ্রুত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার ও চালানোর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রতি সমর্থনের বার্তাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তরুণদের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার বিষয়টিকে অনেকে ভবিষ্যৎমুখী নেতৃত্বের অংশ হিসেবে দেখছেন।এসব পদক্ষেপকে শুধু ব্যক্তিগত আচরণ কিংবা প্রতীকী কর্মকাণ্ড হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরলতা, মানবিকতা, জবাবদিহিতা, জনসম্পৃক্ততা এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মধ্যেও সরকার কিছু নীতিগত ও জনমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল এবং কাঠামোগত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, স্পোর্টস কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমিসেবা, ই-বেইলবন্ড, খাল পুনঃখনন, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের আর্থিক সম্মানী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিক্ষা ও তরুণদের জন্য নতুন কর্মসূচি।তবে সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের বাস্তবায়ন এখনো অনেকটাই হতাশাজনক। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের চাঁদাবাজি, দখলদারি, পেশিশক্তির প্রদর্শন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতি তাচ্ছিল্য এবং নাগরিকদের সঙ্গে ক্ষমতাদর্পী আচরণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত কয়েক দিনে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত কয়েকটি শিরোনামেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। ‘গ্যাসের জন্য হাহাকার, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং’; ‘গ্যাস সংকটে একে একে বন্ধ হচ্ছে নিত্যপণ্যের কারখানা’; ‘তীব্র বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে সড়ক অবরোধ ও স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি’; ‘লোডশেডিংয়ে বরফ সংকট, সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা’; ‘দলের পদ না ছেড়েই তারা সরকারি সংস্থায়’; ‘শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সেই পুরোনো ধারা ফেরা নিয়ে শঙ্কা’; ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিকেও দলীয়করণ’; ‘পরিসংখ্যানগতভাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি নেই’; ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণে পুরোনো নীতিতে ফিরছে সরকার, বাড়ছে রোগীর দুশ্চিন্তা’; ‘এয়ার টিকেট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছেই’; ‘পাঠ্যবই বদলেছে, বদলায়নি বিতর্কিতদের গদ্য-কবিতা’; ‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ, বিভিন্ন অভিযোগ’; ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ পেল ছাত্রলীগ-যুবলীগ’; ‘বিএনপি নেতার নেতৃত্বে কৃষক দল নেতার বাড়িতে হামলা’; ‘প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের পেট্রোলপাম্পের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই’; ‘বাসার ভেতরে পড়েছিল স্বামী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলাকাটা লাশ’; ‘মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ’—এমন বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।এসব শিরোনাম শীর্ষ প্রচারসংখ্যার দুই দৈনিক ‘আমার দেশ’ ও ‘প্রথম আলো’র গত তিন দিনের প্রকাশনা থেকে নেওয়া। এক সপ্তাহ, এক মাস কিংবা ছয় মাসের সব শিরোনাম স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে প্রতিটি প্রতিবেদনের মধ্যেই মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যা ও সংকটের চিত্র উঠে এসেছে।বাস্তবতা হলো, একজন কর্মজীবী নারী যখন গ্যাসের অভাবে সকালে চুলা জ্বালাতে না পেরে অফিসে যাওয়ার আগে নাশতা করতে পারেন না কিংবা পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন না, তখন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সরল জীবনযাপন তার সমস্যার সমাধান করে না। নানা যুক্তি থাকলেও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভুক্তভোগী মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া এবং অসন্তোষ বাড়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না।তেল-গ্যাস খাতের প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দ্রুত নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের কথা বলা হলেও বাস্তব পদক্ষেপে গতি কম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগে দলীয়করণের চিত্র দেখা গেলে বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশা দুর্বল হয়ে পড়ে। বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি না পাওয়া সীমিত আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় কষ্টের বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাও তাদের কাছে অর্থহীন বলে মনে হতে পারে।দৈনন্দিন জীবনে মানুষ স্বস্তি ও নিরাপত্তা না পেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনের আগে দেওয়া সেই আশ্বাস—‘১২ তারিখ ধানের শীষের বিজয় হলে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন’—ভুক্তভোগী মানুষের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তখন কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশও অধরা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।‘হাসপাতালের সেবা বন্ধ করে দুই এমপির সভা, ফিরে গেলেন রোগীরা’; ‘স্থানীয় সরকারের নির্দলীয় চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত’; ‘চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মিন্টুর হটলাইন, পাঁচ দিনে ১৬৭ অভিযোগ’; ‘বিএনপির দুপক্ষের বিরোধ, এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা’; ‘যুবদল নেতার চাঁদা দাবির ভিডিও ভাইরাল’; ‘রায়গঞ্জে বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ২’; ‘চাঁদা না পেয়ে বন্ধ করা হলো সড়কের কাজ’; ‘বিশ্বাস করেন, সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খালি তদবির—স্থানীয় সরকারমন্ত্রী’; ‘আরো পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক, সবাই বিএনপি নেতা’; ‘ইউএনও কার্যালয়ে মব করে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজ নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা’; ‘কার্যকারিতা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ’; ‘জনপ্রতিনিধিকে ইচ্ছামতো বরখাস্তের সুযোগ রেখে দিচ্ছে বিএনপি সরকারও’; ‘আগের নিয়মেই ফিরছে বিচারক নিয়োগ’; ‘দাওয়াত না পেয়ে অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতার হট্টগোল’; ‘কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা’; ‘ই-সিগারেটে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ’; ‘বর্তমান সরকারের সময় ৪৬৪ হত্যা ও ৬৬৬ ধর্ষণ মামলা (এপ্রিল পর্যন্ত)’; ‘উপাচার্যের কার্যালয়ে ঝুলছে ছাত্রদলের দেওয়া তালা’—এসব সংবাদ শিরোনামও সুশাসন ও মানুষের স্বস্তির বার্তা দেয় না।ছয় মাস পূর্তিতে সরকারের উচিত আত্মতুষ্টির পুরোনো ধারা থেকে বের হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় টেকসই গণতন্ত্র, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনাচরণ ও ইতিবাচক রাজনীতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই শেষ কথা নয়। শেষ পর্যন্ত জনতুষ্টি নির্ভর করবে সামগ্রিক সুশাসনের ওপর।‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের বাস্তব সার্থকতা উদার, গণতান্ত্রিক ও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চার মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হবে। ‘জনগণের দিন’ বাস্তবে নিশ্চিত করতে হলে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ধীরগতি সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী কথায় কথায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালালে তা জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। প্রধানমন্ত্রীর সংযম ও সহনশীলতার বার্তা মাঠপর্যায়ে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না—এ বিষয়টি উপলব্ধি করে সর্বস্তরে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।তা না হলে ধীরে ধীরে দৃষ্টির আড়ালে জ্বলতে থাকা তুষের আগুন একসময় বড় আকার ধারণ করে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে ছাইয়ে পরিণত করতে পারে।
সূত্র: আমার দেশ