প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মানুষের দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা কি না, প্রশ্ন জামায়াত নেতার
স্টাফ রিপোর্টার। ||
দেশে ধারাবাহিকভাবে বোমা উদ্ধারের ঘটনাগুলো সামনে আসায় মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বোমা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার পরিস্থিতির কিছুটা মিল রয়েছে।শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা শাখা আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াত নেতা সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে অবস্থান করেছিলেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদ ও আহতদের সম্মাননা শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি তাদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের স্বীকৃতি।তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বাস্তবায়ন করে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি।জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বস্তর থেকে দলীয়করণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা থাকা দরকার।জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত।দেশের বিভিন্ন খাতে মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, চাঁদাবাজি এখনো বন্ধ হয়নি। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটও রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য এবং অবস্থানের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা দরকার। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় মন্তব্য করে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে জামায়াতকে দমিয়ে রাখার সুযোগ নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা শাখার আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।এ সময় ঢাকা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসাইন ও মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, রাজনৈতিক সম্পাদক হাসান মাহবুব মাস্টার, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান জীম, যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুর রহীম মজুমদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত শতাধিক পরিবারের হাতে সম্মাননা স্মারক এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।
সূত্র: কালবেলা
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত