প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
ফ্যাসিস্ট হটানোর মতো ঐক্যবদ্ধ লড়াই চাই মাছ রক্ষায়ও
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে ছাত্র-জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, ইলিশ ও দেশীয় মাছ রক্ষায়ও একই ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগ চাঁদপুরের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।নিষিদ্ধ ফাঁদ ও জালের ব্যবহারকে ইলিশসহ দেশীয় মাছ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৎস্য আহরণে নিয়োজিতরা চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকর ফাঁদ ব্যবহার বন্ধ রাখলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই দেশে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, বড় কোনো সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতা যেভাবে এক হয়ে রাজপথে নেমেছিল, তাদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়। নদীবেষ্টিত জেলা চাঁদপুরে ইলিশসহ সামগ্রিকভাবে মাছ রক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করলে সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলো সফল হবে।তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। সাধারণ জেলে থেকে শুরু করে সমাজের সব স্তরের মানুষ এগিয়ে এলে এর সুফল সবাই ভোগ করতে পারবেন।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান।এ ছাড়া বক্তব্য দেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমা, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সিফাত খালিদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ এবং চাঁদপুর মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বি এম মোস্তফা কামাল।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি ইলিশ ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালের মতো অনিয়ন্ত্রিত ফাঁদের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে মাছের পাশাপাশি জলজ প্রাণীর বিভিন্ন প্রজাতিও বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একসময় উচ্চবিত্তদের জন্যও ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।অনুষ্ঠান শেষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজনকে সম্মাননা স্মারক ও সনদ দেওয়া হয়। কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদনে মো. ইমাম হোসেন, মনোসেক্স তেলাপিয়া উৎপাদনে মো. শরীফ হোসেন এবং কার্প মাছ উৎপাদনে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়।এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। পরে অতিথিরা উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা অংশ নেন।
সূত্র: দেশ রূপান্তর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত