প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার। ||
বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের দেশ পরিচালনা নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, এই সময়ে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, গণভোটের রায় অস্বীকার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সর্বত্র দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। চলমান সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের পরামর্শ গ্রহণ করে সরকারকে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের ছয় মাসের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হচ্ছে গণভোটের রায় অস্বীকার করা। তার ভাষায়, এর মাধ্যমে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, অথচ এখন নিজের সেই অবস্থান থেকে সরে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গোলাম পরওয়ার বলেন, ছয় মাসে সরকারের কোনো উল্লেখযোগ্য সফলতা চোখে পড়ছে না। সর্বত্র সিন্ডিকেট, দলীয়করণ ও দুর্নীতি রয়েছে। ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।তার অভিযোগ, সরকার বিরোধী দলকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিভিন্ন কার্ড, ঠিকাদারি ও নিয়োগে দলীয় লোকজনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভাও দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজস্ব বোর্ডও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণে অর্থনীতি কোনোভাবে টিকে আছে; অন্যদিকে রপ্তানি ও বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ব্যর্থতা থাকলে তা জনগণের সামনে স্বীকার করতে হবে। বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলোতে সাড়া দিয়ে চলমান সংকট সমাধানে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার পাশাপাশি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ এমপি বলেন, ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে সরকারের মধ্যে এক ধরনের হযবরল পরিস্থিতি দেখা যায়। জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। দেশজুড়ে মাদকের বিস্তার থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, গত ছয় মাসে তার তেমন প্রতিফলন দেখা যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে আগের ধরনের কথাবার্তাই অব্যাহত রয়েছে, যা হতাশাজনক ও ক্ষতিকর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে দলীয়করণ করা হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে রাষ্ট্রীয় মান বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।সরকার অবস্থান পরিবর্তন করবে আশা করে আতিক মুজাহিদ বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, বিরোধী দলের মতামতকে সম্মান করা এবং সহযোগিতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে আগের মতো বিরোধী দলকে দোষারোপ করা এবং সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার না করার রাজনীতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের প্রত্যাশা করা কঠিন হবে।ভিন্নদিকে হাঁটছে সরকারবাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমে সফলতা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে এ সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো গুমের ঘটনা নজরে আসেনি। তৃণমূল পর্যায়ে কিছু ঘটনা ঘটলেও বিরোধী দল ও মত দমনে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক বক্তব্যগুলোকেও তিনি ভালো দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।তবে সরকারের অনেক নেতিবাচক কর্মকাণ্ড রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এখন চরম আকার নিয়েছে। কয়েক দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জালালুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালেও ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটকে অস্বীকার ও অবৈধ বলা হচ্ছে। তার মতে, এটি ২০২৪ সালের বিপ্লবের প্রত্যাশার বিপরীত পথে সরকারের অগ্রসর হওয়ার প্রমাণ।জালালুদ্দীন আরও বলেন, সরকারের সদিচ্ছার অভাবের পাশাপাশি অধিকাংশ দায়িত্বশীল ব্যক্তি নতুন ও অনভিজ্ঞ হওয়ায় নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে। জনগণ বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্য স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের অনুভূতি বিবেচনায় নিয়ে দেশ পরিচালনা এবং মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সরকার অযোগ্যদের দিয়ে দেশ চালাচ্ছেজামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রধান নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি বলেন, সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড তাদের কাছে সন্তোষজনক নয়। সর্বত্র দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন।সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে মারামারি ও বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে না সরকার পুরো মেয়াদ পূরণ করতে পারবে। গণভোট অস্বীকার করার অভিযোগও করেন তিনি।নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, সরকার অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়ে দেশকে ভালোভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।সরকার শুরুতেই প্রতারণা করেছেজাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি বলেন, ক্ষমতায় এসে বর্তমান সরকার প্রথমেই সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে মিথ্যা ও প্রতারণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে। অথচ তারাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এবং তাদের ৩১ দফাতেও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ছিল। শুরুটাই ভালো না হওয়ায় পরবর্তী কর্মকাণ্ডেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তার অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ করেছে। ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে মানুষ পরিবর্তন প্রত্যাশা করলেও আবারও দলীয়করণের রাজনীতি দেখা যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।সংরক্ষিত আসনের এই এমপি বলেন, দেশ সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সরকারকে আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরবে। তার মতে, শুধু গ্যাস সংকট সমাধান করলে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে না; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে অন্যান্য সমস্যারও ধীরে ধীরে সমাধান হবে।সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনকআমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নির্বাচিত সরকারের মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস খুব কম সময় নয়। এটি সরকারের মেয়াদের দশ ভাগের এক ভাগ। তবে শুধু ছয় মাসের ভিত্তিতে সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত হিসাব করাও ঠিক হবে না।সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসনব্যবস্থা, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গণতান্ত্রিক চর্চার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয় বলে জানান তিনি। এসব সূচকে গত ছয় মাসে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন মঞ্জু। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই ভালো নয় বলে তিনি মনে করেন।বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতিকে হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অথচ জীবনমান উন্নত হওয়ার পরিবর্তে আরও খারাপ হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক সহিংসতা সরকারের সুশাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন হয়েছে।বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে অনেক কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং নতুন শিল্প স্থাপনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান মঞ্জু। নতুন কর্মসংস্থানের প্রত্যাশার বিপরীতে বেকারত্ব বেড়েছে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে সরকারের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন মঞ্জু। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী আচরণ ও কর্মকাণ্ডে মিতব্যয়িতা ও সময়ানুবর্তিতার চর্চা করছেন। জৌলুস এড়িয়ে সাধারণ জীবনযাপনের একটি নতুন সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা করছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় পুরোহিতদের ভাতা চালুসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিক মূল্যায়নে সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগবিএনপি সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতায় আসার পর মাত্র ছয় মাসেই বিএনপি জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বেঈমানি করেছে। রাষ্ট্র সংস্কারে গণভোটের রায় কার্যকর না করে জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে পরপর দুই দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বেকারত্বও বাড়ছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।ডা. ইরানের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, রাজনৈতিক বিভাজন, সংঘাত ও প্রতিহিংসার রাজনীতি জনগণের মধ্যে নতুন করে হতাশা সৃষ্টি করেছে।তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও জবাবদিহিহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক রায়। সেই গণআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। বিএনপি সরকারের প্রতি জনগণের রায় ও জুলাইয়ের চেতনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত রাষ্ট্র সংস্কারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: আমার দেশ।