প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
স্পেনে আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসীর বিক্ষোভ
ডেক্স রিপোর্ট। ||
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। দ্রুত তাদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।বিক্ষোভকারীদের বড় একটি অংশ সম্প্রতি মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশ করেছেন। দুই সপ্তাহ আগে ব্যাপক সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় প্রায় ৭২ হাজার মানুষ এই ছোট ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন বলে ধারণা করা হয়। পরে অধিকাংশ মানুষ স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও এখনো সেখানে প্রায় ৫ থেকে ৮ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন।রোববার সেউতার এল ট্রামপোলিন সৈকতে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন। তাদের দাবি, মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে তাদের আশ্রয়ের সুযোগ দিতে হবে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তায় ক্লান্ত হয়ে দ্রুত সমাধানের দাবিতে তারা স্লোগান দেন।বর্তমানে অনেক অভিবাসী সৈকত এবং শহরের উপকণ্ঠে অস্থায়ী ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সীমিত সক্ষমতার কারণে খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশকারীদের সাধারণভাবে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। মূল ভূখণ্ড স্পেনে যাওয়ার সুযোগ কিংবা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার সম্ভাবনাও সীমিত থাকবে। তবে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপরও চাপ বাড়ছে। সেউতার চিকিৎসক সংগঠনের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্টা বলেন, সীমিতসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিবাসীদের মধ্যে সংক্রামক ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো রোগ দেখা দেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতায় আহত হওয়ার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া বলেন, স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, যদিও এটি উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে। অভিবাসনকে সরাসরি রোগের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের অনেকেই মরক্কোর কম আয় ও দুর্বল কর্মপরিবেশের কারণে ইউরোপে উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় এসেছেন। আবার নাইজেরিয়া, সেনেগালসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলে আশ্রয়ের আবেদন করছেন।প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৩৪ বছর বয়সী এক নাগরিকের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে সেউতায় পৌঁছেছেন। যাত্রাপথে মরুভূমিতে তৃষ্ণায় তার অনেক সঙ্গীর মৃত্যু হতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।সব মিলিয়ে, সীমিত আয়তনের সেউতায় হাজারো অভিবাসীর অবস্থান স্পেনের সামনে নতুন মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি করেছে। একদিকে অভিবাসীদের আশ্রয় ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশা, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সেবাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে সমাধান খুঁজতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি স্পেন।
সূত্র: আমার দেশ।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত