প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদলের নতুন কমিটি: শেষ মুহূর্তে সভাপতি পদে আলোচনায় তিন ছাত্রনেতা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মেধা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার পাশাপাশি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজ চলছে। এখন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া।আসন্ন কমিটিতে সভাপতি পদে শেষ সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তিন ছাত্রনেতা—এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল, খোরশেদ আলম সোহেল ও মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ।আলোচনায় এগিয়ে রুয়েলমাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থান এবং ক্লিন ইমেজের কারণে এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েলের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদের এই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ২ নম্বর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।আন্দোলন-সংগ্রামে পরিচিত মুখ রুয়েল ২৮ অক্টোবরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় আসেন। ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নিজ বিভাগে ভালো ফলাফলের জন্যও তার পরিচিতি রয়েছে।জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও রাজপথে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করা এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক রাজনীতিতে দৃশ্যমান অবস্থানের কারণে তাকে সভাপতি পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।সোহেলেরও রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতাখোরশেদ আলম সোহেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি। আরবি বিভাগের এই শিক্ষার্থী বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে এবং পুলিশি নির্যাতন ও আটকেরও শিকার হতে হয়েছিল।জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও সোহেলের ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্বৈরাচারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।রিয়াদও রয়েছেন শীর্ষ আলোচনায়মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। কম্পিউটার সায়েন্সের এই শিক্ষার্থী বিগত সরকারের সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে একাধিকবার রিমান্ডের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন।জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও তার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান ও সক্রিয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে তাকেও হাইকমান্ডের বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।রুয়েল, সোহেল ও রিয়াদের পাশাপাশি সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সহসভাপতি রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত।জুলাই অভ্যুত্থানের ভূমিকা গুরুত্ব পাচ্ছেবিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, শিক্ষার্থীবান্ধব ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। দলীয় সূত্রের দাবি, কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।বিদায়ের বার্তা বর্তমান নেতৃত্বেরএদিকে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ইতোমধ্যে বিদায়ের বার্তা দিয়েছেন। গত ১৩ আগস্ট রাতে তারা পৃথক ফেসবুক পোস্টে নিজেদের দায়িত্ব পালনের শেষদিনের কথা জানান।এর আগে রাজধানীর গুলশানে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার সঙ্গে তার বিদায়ী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত