প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা দ্রুত সমাধানে অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ
স্টাফ রিপোর্টার। ||
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘদিনের কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের ওপর জোর দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে কাস্টমসের দায়িত্ব হচ্ছে আমদানি-রফতানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র ও শুল্কসংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ বা অবকাঠামো পরিচালনা কাস্টমসের মূল দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ফলে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রফতানি কার্যক্রমের সঙ্গে এটি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিমানবন্দরের আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।কাজের গতি বাড়াতে প্রয়োজন হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিকে যুক্ত করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও দ্রুত হবে।অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ তৈরির জন্য জায়গা নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভাড়া কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে জায়গা নেওয়ার প্রয়োজন হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সুবিধা চালু করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমাতে অস্থায়ী ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ লক্ষ্যে বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং স্থায়ী ওয়্যারহাউজ তৈরির জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত