প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
নতুন কুঁড়ির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মনপুরার ইউএনও আবু মুছার বিরুদ্ধে! তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের।
মোঃ মামুন, উপজেলা প্রতিনিধি মনপুরা ||
ভোলার মনপুরায় জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. আবু মুছার বিরুদ্ধে।অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীরা বরাদ্দের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনপুরা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হোসেন হাওলাদার "ইনসাফ টাইমস২৪" কে বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে মনপুরা উপজেলা থেকে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে মোট ২৭ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। তাদের যাতায়াত ব্যয় বাবদ ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে খেলোয়াড়দের খাবার, আবাসন, পোশাক, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য খাতে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আমি এই ইভেন্টে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন,"আপনি খরচ করে টুর্নামেন্ট চালান, বরাদ্দের টাকা আসলে তা পরিশোধ করা হবে। "নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জন্য সরকারিভাবে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে এবং কীভাবে তা ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ক্রীড়া সংস্থার সদস্যদের জানানো হয়নি। শুধু যাতায়াত বাবদ ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থের হিসাব তাদের কাছে নেই।"মনপুরা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম শাহিন বলেন, "নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিষয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও ইউএনও মো. আবু মুছা তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। তাকে কোনো সভায় ডাকা হয়নি এবং বরাদ্দ, ব্যয় কিংবা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তেও সম্পৃক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি"।এদিকে স্থানীয় ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিযোগিতা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এতে বরাদ্দের অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুছা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, জেলা থেকে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা শুধু নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রচারের জন্য।তবে ভোলা জেলা ক্রীড়া কার্যালয়ের উপপরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি উপজেলার জন্য নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের খরচ বাবদ এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার কথা। তিনি বলেন, "খেলোয়াড়দের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার জন্য আমরা জেলা থেকে ২৬ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়েছে।"উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. শামীম রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত