প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার সম্মতি মিয়ানমারের
ডেক্স রিপোর্ট। ||
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ রাখাইন অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাচাই করা এসব বাস্তুচ্যুত মানুষকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের পর ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা এসব মানুষকে ফেরত নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।এর আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একাধিক উদ্যোগ নিলেও নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বড় পরিসরে কাউকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও রাখাইনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার মধ্যে রয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও সহিংসতার কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। এ ছাড়া অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশেও পাড়ি জমিয়েছে।বাংলাদেশ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও টেকসই করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, রাখাইনে ফেরার আগে পূর্ণ নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা চেয়ে আসছেন রোহিঙ্গারা।
সূত্র: যুগান্তর।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত