প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতাকে পিটিয়ে আহত
মামুন। ||
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতাকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ১৫ আগস্ট রাত ১২টার দিকে মনপুরা উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।আহত যুবদল নেতা আলাউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট বাজারের একজন মোবাইল ব্যবসায়ী। তিনি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ মাহমুদ সৈকত ও মেহেদী হাসানের ছবি এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিভিন্ন তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ করেন আলাউদ্দিন। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী পালনের ছবি এবং একটি চাঁদাবাজি মামলার কপির তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।বর্তমানে সোহাগ মাহমুদ সৈকত আরটিভির মনপুরা প্রতিনিধি এবং মেহেদী হাসান চ্যানেল ভোলার মনপুরা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।ঘটনার দিন ১৫ আগস্ট ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নে মহিষের ঘাস লগ্নির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুল খালেক নামে এক ব্যক্তির বক্তব্য নিতে যান ওই দুই সাংবাদিক। সেখানে ভিডিও ধারণ ও কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।পরবর্তীতে খালেক ও তার ভাই যুবদল নেতা আলাউদ্দিন ছাত্রলীগে ওই দুই ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি ও তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।অভিযোগ করা হয়, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে বাড়ি ফেরার সময় হাসপাতাল মোড়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আলাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।চিকিৎসা শেষে মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলাউদ্দিন বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে তিনি একাধিকবার মারধরের শিকার হয়েছেন এবং ব্যবসায়িকভাবেও লাঞ্ছিত হয়েছেন। দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও তাদের অপকর্ম তুলে ধরার কারণে যদি আবারও তাদের হাতে মার খেতে হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।এ ঘটনায় তিনি ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আলমের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মনপুরা উপজেলা যুবদলের সভাপতি সামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, দলের একজন কর্মীকে মারধরের ঘটনায় তারা অত্যন্ত দুঃখিত। তিনি বলেন, স্বৈরাচার ক্ষমতাচ্যুত হলেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। যারা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত