প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৬৮, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবায় সংকট
ডেক্স রিপোর্ট। ||
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে থাকায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটও দেখা দিয়েছে। এসব তথ্য রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।শনিবার (১৫ আগস্ট) আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনও স্পষ্ট দুর্গত এলাকাগুলোতে। কোথাও সড়কে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও ঘরবাড়ি ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এসব স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নতুন করে ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কায় অনেক মানুষও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।ভূমিকম্পের পর ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাড়িতে ফেরার অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে তাঁবু, স্কুল ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রায় ১ হাজার ৬০০টি আফটারশক অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফ্লোরেসেই প্রায় ২৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাজ করছে। তবে ভূমিধসের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে অনেক গ্রাম এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।ইন্দোনেশিয়ান রেড ক্রস জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর সুযোগ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলাতেও সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রুটেং শহরের হাসপাতালগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে দুটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গতদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সহায়তা এখনও পর্যাপ্ত নয়।এদিকে দুর্গত এলাকাগুলোতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক দুর্গম গ্রামে এখনও জরুরি সহায়তা পৌঁছেনি। কোথায় আশ্রয় নেওয়া উচিত, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত দ্রুত শেষ হয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত