প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে: ববি হাজ্জাজ
স্টাফ রিপোর্টার। ||
প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরিতে খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। এ জন্য স্থানীয় খেলাগুলোকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও প্রয়োজন অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে।মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ববি হাজ্জাজ জানান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের খেলাগুলো নিয়ে গবেষণা এবং তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মের আওতায় এনে কীভাবে বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়েও কাজ করা হয়েছে।প্রাথমিক শিক্ষায় আনন্দময় শিখনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু মুখস্থ করিয়ে শিশুদের ভালোভাবে শেখানো সম্ভব নয়। খেলাধুলা ও আনন্দঘন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হলে তাদের শেখার সক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে।চীন ও জাপানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই দেশগুলোতে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলার সমন্বয় করা হয়েছে। কোন শ্রেণিতে, কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় শেখাতে কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রমে উল্লেখ করা থাকে।এ ধরনের উদ্যোগে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন। বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগির সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ শুরু করা হবে।তিনি আরও বলেন, পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা এবং শিক্ষার পরিবেশ যথাযথভাবে তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
সূত্র: বিডি-প্রতিদিন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত