প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা
ডেক্স রিপোর্ট। ||
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) মার্কিন প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষর করা ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশের আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ও আট বিচারকসহ আদালটির ১০ কর্মকর্তাকে একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছিল।নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে আকানে ও সেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না।২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর আদালটির ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বেড়ে যায়।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেন, আকানে ও সেয়ে আইসিসির এমন কর্মকাণ্ডে ‘সরাসরি’ যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে এমন দেশগুলোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেসব দেশের সরকার আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করে না।রুবিও বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য আইসিসির হুমকি দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদ্যোগ ব্যাপক হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যুক্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।এর আগে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আদালটি ‘মার্কিন সার্বভৌমত্বের’ জন্য হুমকি তৈরি করেছে। ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও বলেন, যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, সেসব দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও আদালত এখতিয়ার দাবি করায় প্রতিষ্ঠানটি ‘নিজেকেই অবৈধ’ করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়।এরপর ট্রাম্প বলেন, রুবিও ‘বিবি ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করার’ চেষ্টা করছেন। ‘বিবি’ বলতে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বোঝান।অন্যদিকে, আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে শুরু থেকেই আদালটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ব্যাখ্যা বা বিচারিক কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আসবে না।আকানে বলেন, আইনগত কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচার নিয়ে কোনো ধরনের চাপ তারা মেনে নেবেন না। আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাই এর মূল ভিত্তি এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে বলেও জানান তিনি।আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম জাপানি নাগরিক আকানের ওপর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আদালত এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সূত্র: আনাদোলু
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত