প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
সরকারের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রশংসার দাবিদার
স্টাফ রিপোর্টার। ||
পররাষ্ট্রনীতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সরকারের প্রথম ছয় মাসে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান ধরে রেখে বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন—এমন মন্তব্য করেছেন লেখক। সরকারের দৃঢ় অবস্থানে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবং ২০১৮ সালের আগস্টে নির্বাসনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় দুই বছরে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় তাঁর মনে হয়েছিল, ভারতীয় আধিপত্যের বিষয়ে দলটি আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিজেপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে দিল্লিতে পাঠানোর পর তাঁর এই ধারণা আরও দৃঢ় হয়।তবে লেখকের দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি ভারতের ঘনিষ্ঠতার কারণে বিএনপির সেই উদ্যোগ উপেক্ষিত হয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সে সময় বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সরকারের আগ্রহ না থাকার কথা জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।নির্বাসনে থাকার ছয় বছরে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সীমিত ছিল বলেও জানান লেখক। মালয়েশিয়া ও পরে তুরস্কে অবস্থানকালে তিনি নিজের মতো করে শেখ হাসিনার সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।তাঁর মতে, দেশ-বিদেশে বিএনপি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও ভারত বিষয়ে দলটির নেতৃত্বে দ্বিধা ছিল। রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েকজন নেতা ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেও বিএনপির অন্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলে গেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলনের সময় রুহুল কবির রিজভীর ভারতীয় চাদর খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটিও লেখক স্মরণ করেন। তাঁর মতে, পররাষ্ট্রনীতিতে বিএনপির ওই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান হয়তো দলীয় কৌশলের অংশ ছিল। তবে তিনি নিজে কৌশলনির্ভর রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন বলেও উল্লেখ করেন।শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশের প্রতি ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের সম্মানের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে লেখক বলেন, ২০১৮ সালের পর বিএনপির অবস্থান তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।জুলাই বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর ভারতের বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর অবস্থান নিলেও বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে ভারতের প্রতি নমনীয়তা অব্যাহত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচন পর্যন্ত ভারত প্রশ্নে সুবিধাবাদী অবস্থান নিয়েছিল বলে তাঁর মন্তব্য।তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ নেতারা ভারতকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা না করে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে লেখক প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লবের আদর্শ ধারণ করা কোনো রাজনৈতিক দল ভারতকে তোষামোদ করতে পারে না।বিএনপি নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ভারত হতে পারে—এমন আলোচনা ছিল বলেও উল্লেখ করেন লেখক। তবে তাঁর প্রথম সফর মালয়েশিয়া ও চীনে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষতার পরিচয় হিসেবে দেখেছেন।লেখকের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিল্লির প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা গেছে। এরপর ভারত ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহারের চেষ্টা করলেও সেটির কার্যকারিতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারত তারেক রহমানকে সফরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছিল বলেও দাবি করেন লেখক।তিনি শেখ হাসিনার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমানের অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সব ভারতপন্থি ও কিছু গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারেক রহমানকে ভারত সফরে রাজি করানোর চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।লেখকের মতে, প্রস্তুতি ছাড়া বা তড়িঘড়ি করে ভারত সফর করলে বাংলাদেশ ও সরকারের জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তাই দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সম্পর্কের জন্য উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফর প্রয়োজন।তবে তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফর কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠক হিসেবে বা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া হওয়া উচিত নয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দরকষাকষির প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।লেখায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনা, গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ, তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত হত্যা, পুশইন, মাদক, সীমান্তে চোরাচালান, তথাকথিত ইসলামি উগ্রবাদ, ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রভাব, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, যোগাযোগ, ক্রিকেট ও ভিসা ইস্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এসব বিষয়ে ভারতের সঙ্গে অর্থবহ ও আন্তরিক আলোচনা প্রয়োজন বলে লেখক মনে করেন। একই সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই উভয় দেশের জন্য সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দিয়েছেন।সবশেষে লেখক দাবি করেন, দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আসা চাপ উপেক্ষা করে তারেক রহমান কৌশলগত প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রাথমিকভাবে পরাজিত করেছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আবারও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত