প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
মহিলা বাস সার্ভিসকে স্বাগত জানাল ইসলামি দলগুলো
স্টাফ রিপোর্টার। ||
নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় চালু হওয়া ‘মহিলা বাস সার্ভিস’কে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারা। তবে নারীদের ভারী যানবাহন চালানোর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে চালু হওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ বা ‘পিংক বাস’ চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া শহরের ১৩টি রুটে ১৪টি বাস দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি বাস চলাচল করবে।পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসগুলো নারী চালক ও কন্ডাক্টরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। নারী যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা ও জিপিএস স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ই-টিকিটিং সুবিধাও রাখা হয়েছে।ইসলামি দলগুলোর নেতারা নারীদের জন্য পৃথক পরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিকে নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে নারী চালকদের ভারী যানবাহন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ। তবে ভারী যানবাহন চালানোর মতো দায়িত্ব নারীদের দেওয়া কতটা উপযুক্ত, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। এত বড় গাড়ি চালানো নারীদের জন্য কতটা নিরাপদ ও উপযোগী, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন পৃথক পরিবহন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এর ফলে কর্মজীবী নারী, পর্দানশিন নারী ও ছাত্রীরা ভিড় ও গণপরিবহনে হয়রানি এড়িয়ে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ পাবেন। তবে অতীতের মতো কয়েকদিন পর যাতে এই সেবা বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি বলেন, নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা প্রশংসার দাবিদার। একই সঙ্গে কর্মজীবী নারীরা যাতে অফিস-আদালতে সম্মানজনক ও নিরাপদ পরিবেশ পান, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি বলেন, নারীদের জন্য পৃথক পরিবহন ব্যবস্থা একটি ভালো উদ্যোগ। সব ক্ষেত্রেই নারীদের জন্য সম্মানজনক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পক্ষে তারা।ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজীও উদ্যোগটির প্রশংসা করে এটিকে ‘চমৎকার ও প্রশংসনীয়’ বলে উল্লেখ করেন।এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, নারীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান।বিআরটিসি জানিয়েছে, ঢাকার ১০টি বাস ১৬০টি স্টপেজে যাত্রীসেবা দেবে। চট্টগ্রামে ১২টি এবং বগুড়ায় ১৬টি স্টপেজ রাখা হয়েছে। নারী যাত্রী এবং বাসে কর্মরত নারী চালক ও সহকারীদের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ও জিপিএসের পাশাপাশি ই-টিকিটিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, ই-টিকিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নারী যাত্রীরা বাসে ওঠার আগেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে কাউন্টারে অপেক্ষার সময় কমবে এবং গণপরিবহনে প্রযুক্তিনির্ভর সেবাও নিশ্চিত হবে।সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, শুধু বাসের ভেতরে নয়, বাসের জন্য অপেক্ষার সময় এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।তিনি আরও বলেন, এ সেবা কেবল উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; নিয়মিতভাবে এর মানোন্নয়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে নারী-বান্ধব এবং নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত এ ধরনের বাসসেবা আরও বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিভাগেও নারীবান্ধব বাসসেবা চালু ও সম্প্রসারণ করা হবে। ফলে নতুন চালু হওয়া এই সেবাকে নিয়মিত ও টেকসইভাবে পরিচালনার পাশাপাশি এর পরিধি বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: টাইমস টুডে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত